
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ফার্মেসির ওষুধ সংরক্ষণের ফ্রিজে কাঁচা মাংস রাখার মতো গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
উপজেলার কেরানীহাট এলাকায় টানা দুই দিনের অভিযানে এই দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড ধরা পড়ে।
এসব ঘটনায় জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকির বিষয়টি আমলে নিয়ে দুটি ফার্মেসিসহ মোট চারটি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কেরানীহাট এলাকায় এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামছুজ্জামান।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার এম আর ফার্মেসির ওষুধ সংরক্ষণের ফ্রিজে কাঁচা মাংস রাখার প্রমাণ পাওয়া যায়।
একই সঙ্গে ফার্মেসিটিতে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে ওষুধ বিক্রির বিষয়টিও আদালতের নজরে আসে।
গুরুতর এই অপরাধে এম আর ফার্মেসিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই দিনে আসিফ কনফেকশনারিতে মেয়াদোত্তীর্ণ দুগ্ধজাত পণ্য এবং আমদানিকারকের সিলবিহীন পণ্য বিক্রির প্রমাণ মেলে। এই অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এর আগে বুধবার (২২ জুলাই) একই এলাকায় পরিচালিত অপর এক অভিযানে তোহা ফার্মেসিতে ওষুধের সঙ্গে একই ফ্রিজে কাঁচা মাংস সংরক্ষণের দায়ে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
একই সময়ে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বিদেশি পণ্য ক্রয় ও বাজারজাতকরণের অভিযোগে কসমেটিক জুল নামের একটি প্রতিষ্ঠানকেও জরিমানা করা হয়।
ওই দিনের অভিযানে তোহা ফার্মেসি ও কসমেটিক জুল থেকে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামছুজ্জামান জানান, পরপর দুই দিন কেরানীহাট এলাকায় পরিচালিত অভিযানে একাধিক প্রতিষ্ঠানে গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে।
ওষুধ সংরক্ষণের ফ্রিজে কাঁচা মাংস রাখার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে ওষুধের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে।
কোনোভাবেই এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।
তিনি আরও জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ, মানহীন ও অবৈধভাবে বাজারজাত করা পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।