
কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
রোববার (২৬ জুলাই) রাত আটটার দিকে চিরিঙ্গা সেতু পয়েন্টে এই অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুপায়ন দেব।
রোববার সকালে একুশে পত্রিকায় ‘রাতের আঁধারে মাতামুহুরী নদীতে বালু লুটের মহোৎসব, ঝুঁকিতে চিরিঙ্গা সেতু’ শিরোনামে একটি তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এই সংবাদটি চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসার ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে সেখানে অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানের সময় নদীতে সদ্য বসানো একটি শ্যালো মেশিন জব্দ করে ভেঙে দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।
তবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি টের পেয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে জড়িতরা অন্ধকারে পালিয়ে যায়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুপায়ন দেব জানান, একুশে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটির ভিত্তিতেই রাত আটটার দিকে মাতামুহুরী নদীর চিরিঙ্গা সেতু পয়েন্টে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তিনি জানান, মাতামুহুরী নদীর জেগে ওঠা চর কেটে এবং নদীতে শ্যালো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি এখন উপজেলা প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে।
অবৈধ বালু লুটতরাজ বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
সম্প্রতি অতিবৃষ্টির পর উজান থেকে পাহাড়ি ঢলে নেমে আসা পলিমাটি জমে মাতামুহুরী নদীর বুকে একাধিক পয়েন্টে চর জেগে উঠেছে।
প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে একটি মহল রাতের বেলায় ওই চর কেটে এবং শ্যালো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন শুরু করে।
নদীর চর কেটে বালু উত্তোলনের কারণে প্রতিবছর নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করছে, যার ফলে বিপুল জনবসতি ও ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বালু উত্তোলনে জড়িতরা প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষ পরিবেশবিধ্বংসী এই কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করার সাহস পান না।
ফলে জড়িতরা নির্বিঘ্নে বালু লুটের মহোৎসবে মেতে উঠেছিল।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুপায়ন দেব জানান, জেলা প্রশাসন কর্তৃক ইজারা দেওয়া মহাল ছাড়া অন্য যেকোনো স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা আইনগতভাবে অবৈধ।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকালেও চিরিঙ্গা মাতামুহুরী সেতুর নিচ থেকে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে একটি শ্যালো মেশিন জব্দ করে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।