
“স্বাস্থ্যকেন্দ্র নয়, যেন পরিত্যক্ত কোনো ধ্বংসাবশেষ—পটিয়ার ধলঘাট স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বেহাল দশা” শিরোনামে একুশে পত্রিকায় সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে পটিয়ার ধলঘাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।
ইতোমধ্যে পুরোনো জরাজীর্ণ ভবনটি ভেঙে ফেলার কাজ চলছে। সম্পূর্ণ ভবনটি ভাঙার পর নতুন ভবন নির্মাণের মূল কাজ শুরু হবে বলে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে।
সোমবার দুপুরে পুরোনো ভবন ভাঙার কাজ পরিদর্শন করেন পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু তৈয়ব। এ সময় কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি।
পরিদর্শনকালে ধলঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন ও মোহাম্মদ উল্লাহসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
২০১৫ সালে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ধলঘাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পুরোনো ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। এরপর থেকে একটিমাত্র কক্ষে জোড়াতালি দিয়ে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চলে আসছিল।
বর্তমান পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু তৈয়ব দায়িত্ব গ্রহণের পর ভবনটি পুনর্নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকল্পটি অনুমোদনের পর টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
আনুমানিক সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ধলঘাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নতুন চারতলা ভবন নির্মিত হচ্ছে। পুরোনো ভবন ভাঙতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। এরপর নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
২০২৮ সালের জুন মাসে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এই সময় পর্যন্ত ধলঘাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম পাশের ইকবাল মেমোরিয়াল স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিচালিত হবে।
ধলঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ ছিল এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বিলম্ব হচ্ছিল। পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন ভবন নির্মাণ দ্রুত শুরু করতে উদ্যোগ নেন। তাঁর একান্ত প্রচেষ্টায় নতুন ভবন বাস্তবায়িত হচ্ছে।
একসময় ধলঘাট ও আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাসেবা নিতেন।