সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সড়ক নয়, যেন গর্তের সারি

লোহাগাড়ার দরবেশহাট ডিসি সড়কে সীমাহীন ভোগান্তি
মোহাম্মদ আলাউদ্দিন | প্রকাশিতঃ ৩০ জুলাই ২০২৬ | ৮:২১ অপরাহ্ন


কাদা আর লালচে পানিতে ডুবে আছে সড়কের বড় বড় গর্ত। হেলেদুলে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে সেই কাদাপানি পার হচ্ছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মালবাহী গাড়ি। ভাঙাচোরা সড়কে বেরিয়ে আছে ইট ও খোয়া। সামান্য অসতর্ক হলেই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ দরবেশহাট ডিসি সড়কের বর্তমান চিত্র এটি। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া এবং ইটভাটার ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কটির এমন বেহাল দশা তৈরি হয়েছে।

প্রতিদিন হাজারো পথচারী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষকে এই পথ দিয়ে চরম দুর্ভোগ নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে গর্তগুলোতে পানি জমে থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি এখন কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটির দরবেশহাট তাজমহল কমিটি সেন্টার এলাকায় কার্পেটিং উঠে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ইট ও কংক্রিট দিয়ে গর্ত ভরাটের চেষ্টা করা হলেও তা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, রিকশা, পিকআপ ও মিনিট্রাক চলাচলের সময় চালকদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।

লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা, রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী নুরুল আলম বলেন, এই সড়ক দিয়ে গাছ ও বাঁশের ট্রাকের পাশাপাশি ইটভাটার গাড়ি চলে। সড়কের পাশে গড়ে ওঠা বেশ কয়েকটি ইটভাটার বড় ট্রাকে ইট, কংক্রিট ও মাটি পরিবহন করা হয়। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি লোডের গাড়ি চলায় মূলত সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

পুটিবিলা ইউনিয়নের গৌড়স্থান উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কবি সোলাইমান বলেন, সড়কের এমচর হাট বাজার, মাস্টারপাড়া টার্নিং, গৌড়স্থান লাকী পাড়ার আগে ও পরে এবং নয়াবাজারসহ হাসনা ভিটা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অংশে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। বেহাল এই সড়কের কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ছরওয়ার কামাল জানান, গর্তের কারণে প্রতিদিন দুর্ভোগের পাশাপাশি যানবাহনের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সড়কটি সংস্কারের জন্য দরপত্র বা টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ায় ঠিকাদার কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করায় পরে তা বাতিল করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ‘পল্লী সড়ক ও সেতু মেরামত কর্মসূচি’র আওতায় দরবেশহাট থেকে এমচর হাট পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রাস্তার প্রাক্কলন তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। আগামী মাসে এ সংক্রান্ত সভায় অনুমোদন পেলে সড়কটি পুনরায় দরপত্রে যাবে।