সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

তাপপ্রবাহ ও বন্যার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে এল নিনো

এল নিনো মোকাবিলায় জীবাশ্ম জ্বালানি বন্ধের তাগিদ
একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১ অগাস্ট ২০২৬ | ২:৩৮ অপরাহ্ন


জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও সম্প্রসারণ জলবায়ু সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে। এর সঙ্গে যুক্ত হওয়া এল নিনোর প্রভাবে আগামী কয়েক মাসে বিশ্বজুড়ে চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

শুক্রবার বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বা ডব্লিউএমও এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে।

জাতিসংঘের এই সংস্থার সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে বলা হয়েছে, এল নিনোর কারণে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ, খরা ও বন্যার ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।

এল নিনো হলো জলবায়ুর এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণায়ন ঘটে।

ডব্লিউএমওর এই প্রতিবেদন এমন সময় প্রকাশ করা হলো, যখন আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ভয়াবহ দাবানলের সঙ্গে লড়ছে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় মৌসুমি বৃষ্টিতে ব্যাপক দুর্যোগ দেখা দিয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জানিয়েছেন, এল নিনো ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। আগেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠা পৃথিবীকে এটি আরও বেশি উত্তপ্ত করে তুলছে।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আন্তোনিও গুতেরেস। এল নিনো ও মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাবে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

নতুন কয়লা, তেল ও গ্যাস প্রকল্পের অনুমোদন এবং বাস্তবায়ন অবিলম্বে বন্ধ করারও আহ্বান জানান তিনি।

ডব্লিউএমওর পূর্বাভাসে বলা হয়, প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যাঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৫ দশমিক ২২ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

সংস্থাটির মতে, বিশ্বের প্রায় সব স্থলভাগেই স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করবে। আফ্রিকা, দক্ষিণ ইউরোপ, ভারতীয় উপমহাদেশ, পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকায় তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি।

ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো জানান, এল নিনোর গতিপ্রকৃতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে শুধু আগাম সতর্কবার্তাই যথেষ্ট নয়।

ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে সরকার ও মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে সেলেস্তে সাউলো উল্লেখ করেন।

এদিকে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, চলতি বছর এল নিনো রেকর্ড মাত্রার তীব্রতায় পৌঁছাতে পারে। যদিও কম্পিউটারভিত্তিক পূর্বাভাস মডেলগুলোর হিসাব-নিকাশ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তোনিও গুতেরেস চারটি ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রথমত, শহর ও জাতীয় পর্যায়ে তাপপ্রবাহ মোকাবিলার পরিকল্পনা এবং আগাম সতর্কবার্তা চালু করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব শীতলীকরণ ব্যবস্থার সুযোগ বাড়াতে হবে।

দ্বিতীয়ত, কর্মক্ষেত্রকে আরও নিরাপদ করতে তাপমাত্রাজনিত নিরাপত্তা মানদণ্ড নির্ধারণ করতে হবে।

তৃতীয়ত, শহর ও বিভিন্ন ভবনের নকশা করার ক্ষেত্রে তীব্র তাপপ্রবাহের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাজেটে এই ঝুঁকিকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

সর্বশেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে পৃথিবীর উষ্ণায়নের মূল চালিকা শক্তি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনার ওপর জোর দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।