
পূর্বশত্রুতার জেরে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে মেয়ের সামনে নুরুল আজিম প্রকাশ আজমকে কুপিয়ে হত্যার ২২ দিন পর প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানাধীন গাদাবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম দিদারুল আলম প্রকাশ দিদার। সোমবার সকালে হাটহাজারী মডেল থানা কর্তৃপক্ষ তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
৪৫ বছর বয়সী দিদারুল আলম হাটহাজারীর পূর্ব দেওয়াননগর এলাকার হামিদ আলী বাড়ির মৃত আবদুল মোনাফের ছেলে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় হাটহাজারী মডেল থানার একটি দল এই অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিদারুল আলমের নিজ বাড়ি সংলগ্ন গোয়ালঘরে লুকিয়ে রাখা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কিরিচ ও একটি রামদা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ৬টি সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর হওয়ার অপেক্ষায় ছিল।
গত ১০ জুলাই সকালে মেখল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খলিফাপাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে নুরুল আজিম বাড়ির পাশের একটি জমিতে মাছ ধরতে যান।
সেখানে পূর্বশত্রুতার জেরে দিদারুল আলমের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মেয়ের সামনেই দিদারুল আলম ও তার সহযোগী মোহাম্মদ মোরশেদ প্রকাশ আকিল ধারালো অস্ত্র দিয়ে ৪০ বছর বয়সী নুরুল আজিমকে কুপিয়ে হত্যা করেন।
নিহত ব্যক্তি দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক ছিলেন। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রাজু আক্তার বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে হাটহাজারী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ১৪।
মামলার পর থেকে প্রধান আসামি দিদারুল আলম আত্মগোপনে ছিলেন।
এর আগে হাটহাজারী ও নগরীর বাকলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার দুই আসামি ৩০ বছর বয়সী মোহাম্মদ মোরশেদ প্রকাশ আকিল এবং ৫৫ বছর বয়সী মো. আলী আকবরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, সহযোগী মোহাম্মদ মোরশেদ প্রকাশ আকিলের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা এবং এক বছরের সাজা পরোয়ানা মূলতবি ছিল।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।