সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

কক্সবাজারে অটোরিকশায় পাহাড়ের মাটি ধসে পর্যটকসহ আহত ছয়

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৫ অগাস্ট ২০২৬ | ৮:০৮ অপরাহ্ন


টানা ভারী বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারের টেকনাফে মেরিন ড্রাইভ সড়কে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে।

এতে ধসে পড়া মাটি একটি অটোরিকশার ওপর পড়লে এক পর্যটকসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।

বুধবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

আবহাওয়ার বৈরী আচরণ এবং টানা বৃষ্টির কারণেই এই পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, পাহাড়ধসের মাটি সড়কে চলাচল করা একটি অটোরিকশার ওপর পড়ে।

এতে ওই অটোরিকশায় থাকা ছয়জন আহত হন, যাদের মধ্যে একজন কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন।

পাহাড়ধসের কারণে প্রায় আড়াই ঘণ্টা মেরিন ড্রাইভে যান চলাচল বন্ধ ছিল।

পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাটি ও গাছপালা সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।

দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক পরিচয় জানা যায়নি।

তবে তাদের মধ্যে পর্যটকসহ তিনজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী নিশ্চিত করেছেন।

বুধবার সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়, মেরিন ড্রাইভের পূর্ব পাশে ৮০ থেকে ৯০ ফুট উঁচু পাহাড়ের একটি অংশ গাছসহ ধসে সড়কের ওপর পড়েছে।

সেনাবাহিনীর সদস্যরা খননযন্ত্র দিয়ে সড়ক থেকে মাটি ও গাছপালা সরানোর কাজ করছেন।

এ সময় সড়কের দুই পাশে শতাধিক যানবাহন আটকে থাকতে দেখা যায়, যেগুলোর যাত্রীদের বেশির ভাগই ছিলেন পর্যটক।

দরিয়ানগরের বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী মমতাজ আলম জানান, পাহাড়ধসের সময় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা হিমছড়ির দিকে যাচ্ছিল।

ধসে পড়া মাটির কিছু অংশ ওই ইজিবাইকের ওপর পড়ে বলে মমতাজ আলম উল্লেখ করেন।

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের দৈর্ঘ্য ৮৪ কিলোমিটার, যার পূর্ব পাশে পাহাড় এবং পশ্চিম পাশে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত।

মঙ্গলবার বিকেল থেকে কক্সবাজারে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান জানান, বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১২১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

ভারী বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় আরও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আবদুল হান্নান সতর্ক করেছেন।