
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস বিকৃত করে তথ্যচিত্র প্রদর্শনের অভিযোগে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুষ্ঠানে চরম হট্টগোল হয়েছে।
এর প্রতিবাদে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির নেতারা অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন এবং বিদেশিদের সামনে এমন বিশৃঙ্খলায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
হট্টগোলের একপর্যায়ে উপস্থিত বিদেশি কূটনীতিকদেরও অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা যায়, অনুষ্ঠানে প্রচারিত তথ্যচিত্রে এক দফা ঘোষণা এবং নয় দফার বিষয়গুলো সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি বলে অভিযোগ তোলেন এনসিপির নেতারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক এবং এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মাহিন সরকার অভিযোগ করেন যে, তথ্যচিত্রে এক দফার ঘোষক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেখানো হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং মুখপাত্র আসিফ মাহমুদের নাম ওই ইতিহাসে রাখা হয়নি।
তথ্যচিত্রের প্রতিবাদ করার কারণে প্রধানমন্ত্রীর বাহিনী তার ওপর হামলা চালিয়েছে বলে মাহিন সরকার অভিযোগ করেন।
হট্টগোলের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান মঞ্চে উঠে সবাইকে শান্ত হওয়ার অনুরোধ করেন এবং তথ্যচিত্রের ভুল সংশোধনের আশ্বাস দেন।
কিন্তু বিশৃঙ্খলা চলতে থাকায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন মাইকের সামনে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন যে, তারা শহীদ পরিবারের জন্য কিছুই করেননি।
এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে দলীয়করণ না করার আহ্বান জানান।
একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ডাকে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন মঞ্চে আসেন।
আখতার হোসেন অভিযোগ করেন যে, আওয়ামী লীগ যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস একপেশেভাবে দখল করেছিল, এখানেও তেমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
২০২৪ সালের ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে দেওয়া এক দফার ঘোষণার বিষয়টি তথ্যচিত্রে না থাকায় ক্ষোভ জানিয়ে তিনি সহযোদ্ধাদের নিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।
অনুষ্ঠানে এমন বিশৃঙ্খলায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিদেশি অতিথিদের সামনে নাস্তানাবুদ হওয়ায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন বলে জানান।
তিনি মন্তব্য করেন, এই ঘটনায় পাশের দেশে বসে থাকা ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি খুশি হবেন।
তথ্যচিত্রের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সেখানে জুলাই বিপ্লবের প্রতীক শহীদ আবু সাঈদ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছবি ছিল না।
এসব ছবি ছাড়া আন্দোলনের কোনো তথ্যচিত্র পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।