সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

পটিয়ায় ৩০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ মিলছে ২০, চরম দুর্ভোগ

রবিউল হোসেন | প্রকাশিতঃ ৬ অগাস্ট ২০২৬ | ৭:৩১ অপরাহ্ন


জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজনীয় সরবরাহ না পাওয়ায় চট্টগ্রামের পটিয়ায় প্রতিদিন ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

এর ফলে দিনের একটি বড় অংশ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় কাটাতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদের।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি বা পিজিসিবি থেকে বিদ্যুৎ কিনে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এবং বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) আওতাধীন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে পটিয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

তবে গত এক মাস ধরে চাহিদার তুলনায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ কম পাওয়ায় এলাকাটিতে নিয়মিত লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পটিয়ায় প্রতিদিন বিদ্যুতের মোট চাহিদা ৩০ মেগাওয়াট, কিন্তু সেখানে সরবরাহ মিলছে মাত্র ২০ মেগাওয়াট।

বিপিডিবি বা পিডিবি এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ সূত্রে জানা গেছে, পটিয়ায় পিডিবির প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহক রয়েছে।

পটিয়া পৌরসভা ও কয়েকটি ইউনিয়নের আংশিক এলাকা পিডিবির আওতাভুক্ত, যেখানে ছয়টি ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

এসব এলাকায় নিয়মিত ১০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও পিজিসিবি থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় গড়ে চার মেগাওয়াট লোডশেডিং দিতে হয়।

পিডিবি বিতরণ বিভাগ পটিয়ার উপসহকারী প্রকৌশলী নকিব উদ্দীন জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ না পাওয়ায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

তবে সবসময় এমন পরিস্থিতি থাকে না বলেও তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর পটিয়া জোনের আওতায় ১৭টি ইউনিয়নে প্রায় ৮০ হাজার গ্রাহক রয়েছে।

এসব এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে গড়ে ১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

দুটি সাবস্টেশনের মাধ্যমে আশিয়া, কাশিয়াইশ, ছনহরা, ভাটিখাইন, জঙ্গলখাইন, হাবিলাসদ্বীপ ও ধলঘাট ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

এছাড়া কেলিশহর, হাইদগাঁও, কচুয়াই, খরনা, জিরি, কুসুমপুরা, বড়লিয়া, দক্ষিণ ভূর্ষি এবং শোভনদণ্ডী ইউনিয়নের কিছু অংশেও এই দুটি সাবস্টেশন থেকে বিদ্যুৎ পৌঁছায়।

চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর উপসহকারী প্রকৌশলী লিটন চন্দ্র রায় জানান, পাওয়ার গ্রিড থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, সেই অনুযায়ী তারা গ্রাহকদের সরবরাহ দিয়ে থাকেন।

তাদের ২০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে গড়ে ১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা তিনি উল্লেখ করেন।

পটিয়া সদর বণিক সমিতির সভাপতি গাজী আমির হোসেন জানান, বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে গিয়ে তারা হিমশিম খাচ্ছেন।

দিনে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এবং রাতে বাসাবাড়িতে নিয়মিত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় ভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি বয়স্ক ও শিশুরা গরমে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।