সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সংযোগ সড়কহীন পটিয়ার কালভার্টে ফাটল, চরম দুর্ভোগ

রবিউল হোসেন | প্রকাশিতঃ ৭ অগাস্ট ২০২৬ | ২:৪৭ অপরাহ্ন


নির্মাণের এক বছর না পেরোতেই চট্টগ্রামের পটিয়ায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি কালভার্টে ফাটল দেখা দিয়েছে।

একই সঙ্গে দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এটি পারাপারে স্থানীয়দের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

পটিয়া উপজেলার খরনা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মুজাফরাবাদ এলাকার সোনাছড়ি খালের ওপর এই কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়।

দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যার সমাধানের বদলে এটি এখন স্থানীয়দের জন্য নতুন সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বা এলজিইডির তত্ত্বাবধানে এবং উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন তহবিলের অর্থায়নে এটি নির্মাণ করা হয়।

নির্মাণকাজের দায়িত্বে ছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম/এস হক অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স।

কাজ শেষ হওয়ার পর কালভার্টটি উদ্বোধন করেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান এবং সেখানে তাঁর উদ্বোধনী নামফলকও স্থাপন করা হয়েছে।

সংযোগ সড়ক না থাকায় কালভার্টটি এখন এলাকাবাসীর জন্য একপ্রকার ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও কৃষকদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এবং বর্ষা মৌসুমে কালভার্টের দুই পাশে হাঁটুসমান কাদা জমে যায়।

বর্তমানে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটেও চলাচল করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

এই পথ দিয়ে বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, বিজিসি ট্রাস্ট কলেজ, বিজিসি ট্রাস্ট হাসপাতাল এবং মুজাফরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়সহ আশপাশের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত যাতায়াত করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সুনীল নন্দী অভিযোগ করেন যে, কালভার্টের কয়েকটি অংশে ফাটল ধরেছে এবং সংযোগ সড়ক না থাকায় মানুষ এটি ব্যবহার করতে পারছে না।

দ্রুত দুই পাশে মাটি ভরাট করে সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়ে তিনি পটিয়ার সংসদ সদস্য এনামুল হক এনামের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

কালভার্টে ফাটল প্রসঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী নাজিম উদ্দীন জানান, এটি কাজের ত্রুটির কারণে হয়নি, বরং মাটির চাপ সহ্য করতে না পারায় ফাটল দেখা দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, বরাদ্দ অনুযায়ী তারা শুধু কালভার্ট নির্মাণ করেছেন এবং সংযোগ সড়কের জন্য মাত্র ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও সেখানে অতিরিক্ত প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

নাজিম উদ্দীনের দাবি, প্রকৃতপক্ষে ওই স্থানে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার একটি সেতু প্রয়োজন ছিল, কিন্তু বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মাত্র ১০ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে পটিয়া উপজেলা প্রকৌশলী তন্ময় নাথ জানিয়েছেন, কালভার্টের সঙ্গে সংযোগ সড়ক না থাকার বিষয়টি তারা জেনেছেন।

বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জরুরি ভিত্তিতে সংযোগ সড়কের ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কালভার্টে ফাটলের বিষয়টিও সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।