
জালনোটের বিস্তার রোধে শুধু ব্যাংক বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বিকেলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় জালনোট প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি বিষয়ক এক কর্মশালায় বক্তারা এই তাগিদ দেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অগ্রণী ব্যাংক কেরানীহাট শাখার যৌথ উদ্যোগে সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে এই সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জালনোটের ব্যবহার শুধু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতি করে না, এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্যও অত্যন্ত ক্ষতিকর।
অসাধু চক্র বাজারে জালনোট ছড়িয়ে দিলে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি বৈধ মুদ্রার ওপর আস্থাও হারাতে পারে বলে তাঁরা সতর্ক করেন।
সাতকানিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুজ্জামান এই কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অগ্রণী ব্যাংক চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক গাজী আরিফুর রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন অগ্রণী ব্যাংক কেরানীহাট শাখার ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ রাশেদুজ্জামান।
প্রশিক্ষক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মিরাজ মেহের চৌধুরী এবং সহকারী পরিচালক (ক্যাশ) উত্তম কুমার রুদ্র।
প্রশিক্ষণে আসল ও জালনোট চেনার নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য, নোট যাচাইয়ের পদ্ধতি এবং লেনদেনের সময় সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়গুলো হাতে-কলমে শেখানো হয়।
বিশেষ করে নোটের জলছাপ, নিরাপত্তা সুতা, রং পরিবর্তনশীল বৈশিষ্ট্য এবং উঁচু-নিচু ছাপ পরীক্ষা করে নোট গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
ব্যাংকার, ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং সাধারণ গ্রাহকদের বাজারে বেশি লেনদেনের সময় তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটি নোট যাচাই করার আহ্বান জানান বক্তারা।
কোনো নোট নিয়ে সন্দেহ হলে সেটি অন্যের কাছে না চালিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে জালনোটের কারবার সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়।