
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ২৯ কিলোমিটার অংশে নিষিদ্ধ সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলের সুযোগ নিয়ে যাত্রীবেশে সংঘবদ্ধ একটি চক্র একলা থাকা নারী যাত্রীদের জিম্মি করে সর্বস্ব লুট করে নিচ্ছে।
মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও মিরসরাই অংশে অবাধে অটোরিকশা চলাচলের সুযোগে অপরাধীরা একের পর এক ঘটনা ঘটাচ্ছে।
বিগত এক বছরে মহাসড়কের এই অংশে অন্তত অর্ধশত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
সাধারণত সিএনজি অটোরিকশায় চালকের সঙ্গে বা পেছনের সিটে আগে থেকেই চক্রের সদস্যরা যাত্রী সেজে বসে থাকে।
একাকী চলাচল করা নারী যাত্রীদের টার্গেট করে সিএনজিতে তোলার পর নির্জন স্থানে নিয়ে অস্ত্রের মুখে তাঁদের জিম্মি করা হয়।
কোনো কোনো ঘটনায় যাত্রীদের চোখে মলম লাগিয়ে বা ভয়ভীতি দেখিয়ে গলার স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিরোধ বা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে মারধর করে বিকাশ নম্বর, এটিএম কার্ড এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড জেনে নিচ্ছে চক্রটি।
গত ১৯ জুলাই স্কুলে যাওয়ার পথে এই ধরনের ছিনতাইয়ের শিকার হন মিঠাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জোবেদা খানম।
মিরসরাই সদরের অছি মিঞা ব্রিজ এলাকা থেকে সিএনজিতে ওঠার পর মস্তাননগর বিশ্বরোড এলাকায় নিয়ে তাঁর চোখে মলম লাগিয়ে অলংকার ও মোবাইল ফোন লুটে নেওয়া হয়।
পরে স্কুলের প্রায় চার কিলোমিটার দূরে তাঁকে চলন্ত অটোরিকশা থেকে নামিয়ে অপরাধীরা পালিয়ে যায়।
একইভাবে সর্বস্ব হারিয়েছেন গাছবাড়িয়া জানুমুহুরী বাড়ীর প্রবাসী নূর খারেন এর স্ত্রী রাবেয়া সুলতানা।
তিনি ৮ বছরের সন্তানকে নিয়ে মিরসরাই সদর ইউনিয়নের ওয়ার্লেস এলাকার বাসা থেকে সিএনজিযোগে হাদিরফকিরহাট যাচ্ছিলেন।
পথিমধ্যে সুফিয়া রোড এলাকায় পৌঁছালে যাত্রীবেশী ছিনতাইকারীরা তাঁদের জিম্মি করে স্বর্ণালংকার, ফোন ও টাকা লুট করে নেয়।
পরে বড়তাকিয়া আবুল কাশেম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এলাকার অদূরে মজিদ ডাক্তার বাড়ির সামনে তাঁদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে পালিয়ে যায়।
মিঠাছরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামশেদ আলম জানান, মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশায় যাত্রী নিরাপত্তার চরম অভাব তৈরি হয়েছে এবং নানাভাবে ভয় দেখিয়ে বিকাশ ও কার্ডের পাসওয়ার্ড আদায় করা হচ্ছে।
জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার ইনচার্জ শরিফুজ্জামান জানান, মহাসড়কে তিন চাকার নিষিদ্ধ যান বন্ধে অভিযান চলছে এবং ছিনতাই রোধে পুলিশ সতর্ক আছে।
মিরসরাই থানার ওসি ফরিদা ইয়াসমিন জানান, হয়রানির ভয়ে ভুক্তভোগীদের অনেকে মামলা করতে চান না, তবে চক্রটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
মিরসরাই আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন জানান, মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশায় ছিনতাইয়ের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে দুই থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।