সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

এসএসসিতে কম পাস, চট্টগ্রামে একাদশে খালি থাকবে হাজার হাজার আসন

ভালো কলেজে ভর্তিতে থাকবে তীব্র প্রতিযোগিতা
একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১২ অগাস্ট ২০২৬ | ৯:১৩ পূর্বাহ্ন


এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এবার পাসের হার কমে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে একাদশ শ্রেণির ভর্তিতে। চট্টগ্রামসহ সারা দেশে মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোনো শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম থাকায় কলেজগুলোতে বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে আসন খালি থাকলেও চট্টগ্রাম কলেজ, মহসীন কলেজসহ নামী কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য আগের মতোই প্রতিযোগিতা থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশের কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য প্রায় ২৫ লাখ আসন রয়েছে। এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী। ফলে সব শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও প্রায় ১৩ লাখ ৬১ হাজার আসন খালি থাকবে।

গত সোমবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আখতারুজ্জামান এ তথ্য জানান।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডেও এবার এসএসসির ফলাফলে বড় ধরনের পতন হয়েছে। বোর্ডে এবার পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম কম। ফলে চট্টগ্রামের কলেজগুলোতেও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে মোট আসন ও শিক্ষার্থীর সংখ্যার মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হতে পারে।

ভালো কলেজে প্রতিযোগিতা থাকবে

যদিও মোট আসনের তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম, তবুও চট্টগ্রামের সরকারি ও বেসরকারি নামী কলেজগুলোতে ভর্তির প্রতিযোগিতা কমবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম নগরের সরকারি কলেজ, স্বনামধন্য বেসরকারি কলেজ এবং বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে বরাবরই শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বেশি থাকে। একই জিপিএধারী অনেক শিক্ষার্থী এসব প্রতিষ্ঠানে আবেদন করায় আসন অনুযায়ী নির্বাচন করতে হয়।

শিক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের শুধু একটি বা দুটি পছন্দের কলেজের ওপর নির্ভর না করে বাস্তবসম্মতভাবে একাধিক কলেজ পছন্দক্রমে রাখা উচিত। কারণ, জিপিএ ভালো হলেও পছন্দের কলেজে আসন সীমিত থাকায় অনেক শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ নাও পেতে পারে।

আগের নিয়মেই হবে ভর্তি

এবার একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। আগের মতোই এসএসসির ফল, জিপিএ, পছন্দক্রম এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় অনলাইনে কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীরা সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠান পছন্দক্রমে নির্বাচন করতে পারবে। পরে মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হবে।

তবে নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করবে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ভর্তি কার্যক্রমও আলাদা নিয়মে হবে।

গতবারের চেয়েও বাড়বে খালি আসন

বোর্ড কর্মকর্তারা জানান, গত বছর একাদশ শ্রেণিতে মোট আসনের ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ পূরণ হয়েছিল। অর্থাৎ ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ আসন খালি ছিল। এবার এসএসসিতে পাসের হার কম হওয়ায় খালি আসনের সংখ্যা আরও বাড়বে।

এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ।

১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হবে ভর্তি

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরুর তারিখ জানানো হবে।

শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, ভর্তি ফি ও অন্যান্য খরচে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে না। আগের নীতিমালা অনুযায়ী এমপিও ও নন-এমপিও কলেজের জন্য নির্ধারিত ফি নেওয়া হবে।

চট্টগ্রামের শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার সামগ্রিকভাবে কলেজগুলোতে আসন খালি থাকার চাপ থাকলেও শিক্ষার্থীদের পছন্দের কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা আগের মতোই থাকবে। বিশেষ করে ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের জনপ্রিয় কলেজগুলো ঘিরে প্রতিযোগিতা বেশি হতে পারে।