
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে পুলিশের সামনেই একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী ও স্বত্বাধিকারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইউনাইটেড চট্টগ্রাম পাওয়ার লিমিটেডের বা ইউসিপিএল-এর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এফএম এন্টারপ্রাইজের প্রকৌশলী শাহরিয়ার আমিরের ওপর হামলা চালান স্থানীয় আলী হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা।
পরে কর্ণফুলী থানায় অভিযোগের পর দুপুরে পুলিশ কাফকোর অদূরে বন্দর সেন্টার এলাকার ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশের সামনেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের ওপর পুনরায় হামলা চালানো হয়।
এই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন প্রকৌশলী শাহরিয়ার আমির এবং মেসার্স এফএম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. দেলোয়ার হোসেন।
একই সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পার্টনার সাংবাদিক জিন্নাত আয়ুবও হামলার শিকার হয়েছেন।
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে জিন্নাত আয়ুব জানান, প্রায় এক মাস আগে আলী হোসেন তাঁদের এক ম্যানেজারকে আটকে রেখে মারধর করেছিলেন।
এরপর একটি বৈঠকে আলী হোসেন ও তাঁর অনুসারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে কাজ করতে হলে চুক্তির পঞ্চাশ শতাংশ চাঁদা দিতে হবে, অন্যথায় কাজ করা যাবে না।
জিন্নাত আয়ুব আরও জানান, পঞ্চাশ শতাংশ চাঁদা দিলে তাঁদের অধীনে থাকা ৩০ জন শ্রমিকের বেতন বাড়ি থেকে এনে দিতে হবে বলে তিনি প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।
তাঁরা কীসের পঞ্চাশ শতাংশ দাবি করছেন তা নিশ্চিত না করেই ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে জিন্নাত আয়ুব জানান।
আলী হোসেনের লোকেরা তখন হুমকি দিয়ে বলেন, চাঁদা দিতে না পারলে তাঁরা যেন বাঁশখালীতে গিয়ে কাজ করেন।
ওই বৈঠকের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ঠিকাদার স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছেন যে ৬০ লাখ টাকার কাজের বিপরীতে তিনি এক পয়সাও চাঁদা দেবেন না, প্রয়োজনে কাজ বন্ধ রাখবেন।
অন্যদিকে আলী হোসেনকে ওই ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, এলাকার মানুষ বেকার কিন্তু কারখানায় কাজ নেওয়ার জন্য তাদের কাছে লাইসেন্স বা কাজের অভিজ্ঞতা নেই।
এমনকি সংসদ সদস্যের সুপারিশেও কারখানার লোকেরা অভিজ্ঞতা খুঁজছে বলে তিনি ওই ভিডিওতে জানান।
জিন্নাত আয়ুব জানান, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় বুধবার সকালে প্রকৌশলী শাহরিয়ার আমিরের ওপর হামলা চালানো হয়।
হামলার আরেকটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারীরা সাংবাদিক ও প্রকৌশলীকে মারধরের জন্য অন্যদের উসকে দিচ্ছেন।
এ সময় ধাক্কাধাক্কির পাশাপাশি তাঁদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়।
এরপর আহত প্রকৌশলী শাহরিয়ার আমিরকে নিয়ে কর্ণফুলী থানায় অভিযোগ করতে যান তাঁরা।
অভিযোগ পেয়ে কর্ণফুলী থানার ওসি মো. ইখতিয়ার উদ্দিনের নির্দেশে বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নূরে আলম সিদ্দিকী তাঁদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।
কিন্তু পুলিশ দেখে আলী হোসেন ও তাঁর লোকেরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং পুলিশের সামনেই তাঁদের ওপর পুনরায় হামলা চালান।
মেসার্স এফএম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, এই ঘটনায় আলী হোসেনসহ চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় তিনি প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আলী হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, পুলিশের উপস্থিতিতে অভিযুক্তরা বাদীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে দলবল নিয়ে হামলার চেষ্টা করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইখতিয়ার উদ্দিন জানিয়েছেন যে এই ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অভিযোগ দিয়েছে এবং পুলিশ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে।
যুবদল নেতা পরিচয়ে আলী হোসেনের এই চাঁদাবাজির ঘটনাটি স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামকে জানানো হলে তিনি বলেন, বন্দর কমিউনিটি সেন্টারে আলী হোসেন নামে কোনো যুবদল নেতাকে আমি চিনি না।
ভুক্তভোগীদের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শও দেন সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম।