সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

১২ দিন, তিন দফা, শূন্য জবাব: বিপিপিএর নীরবতার নথি

শরীফুল রুকন | প্রকাশিতঃ ১৭ অগাস্ট ২০২৬ | ৫:৪৯ অপরাহ্ন


দরদাতা-সংখ্যার ঘর তিনটি কার সিদ্ধান্তে, কবে, কোন যুক্তিতে প্রকাশিত ছক থেকে সরে গেল- এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে একটিমাত্র প্রতিষ্ঠান: বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ)। ১২ দিনে তিন দফা চেষ্টার পরও কোনো লিখিত জবাব আসেনি। কী ঘটেছিল, তারিখ ধরে।

২২ জুলাই। বিপিপিএর ওয়েবসাইটে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে এস এম মঈন উদ্দীন আহমেদের নাম দেখে যোগাযোগ করলে জানা যায়, তিনি তিন দিন আগে ১৯ জুলাই অবসরে গেছেন। নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে বলেন, “দায়িত্বে কাউকে দেয় নাই, আমি যতদূর জানি।”

তাঁর পরামর্শেই একই দিন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দাপ্তরিক ই-মেইলে অনুসন্ধানের সামগ্রিক ফলাফলসহ “১০টি লিখিত প্রশ্ন” পাঠানো হয়- ইনপুট-যাচাই, তথ্য সংশোধনের লগ, সিটিজেন পোর্টালের সীমাবদ্ধতা, মালিকানা-বিধির প্রতিপালন ও রেড-ফ্ল্যাগ মডিউল নিয়ে।

২৩ জুলাই। সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. মোশাররফ হোসেন জানান, দাপ্তরিক জবাব দেওয়ার এখতিয়ার কেবল প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার। অর্থাৎ প্রশ্ন পৌঁছানোর দিনে যে প্রতিষ্ঠানের কাছে উত্তর থাকার কথা, তার শীর্ষ চেয়ারটিই ছিল খালি।

২৮ জুলাই। বিপিপিএর নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেন আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান; একই দিন সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে।

২৯ জুলাই। দ্বিতীয় দফায় লিখিত প্রশ্নমালা যায় সেই দপ্তরেই- এবার দরদাতা-সংখ্যার ঘর তিনটি প্রকাশিত পাতা থেকে উধাও হওয়ার নীতিগত ব্যাখ্যা চেয়েও। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জবাব চাওয়া হয়।

১ আগস্ট। টেলিফোনে নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “আমি দায়িত্ব নিয়েছি মাত্র, এখনও কিছুই বুঝে উঠতে পারিনি।” সংখ্যাগুলো তুলে ধরা হলে- “আপনার তথ্যগুলো আমি বুঝতে পারছি না।”

৩ আগস্ট। ঘর তিনটির প্রশ্ন তুলতেই তিনি ফোনটি দিয়ে দেন সংস্থার একজন ক্রয়-বিশেষজ্ঞ সহকর্মীর হাতে; তাঁর কাছ থেকেও ব্যাখ্যা মেলেনি, ই-মেইলটি আবার পাঠাতে বলা হয়। সেদিনই দুই দফার প্রশ্নমালা তৃতীয়বার পাঠানো হয়।

ফল: ১২ দিনে তিন দফা- লিখিত জবাব আসেনি একটিরও।

যেভাবে দেখা উচিত। সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিটি স্পষ্ট ছিল, আর নতুন প্রধান নির্বাহী দায়িত্ব নিয়েছেন মাত্র কয়েক দিন- ব্যবস্থাটি বুঝে নিতে সময় লাগা স্বাভাবিক। কিন্তু বিন্যাসটি খেয়াল করার মতো: ঘর তিনটি কবে, কার সিদ্ধান্তে, কোন যুক্তিতে বাদ পড়ল- এই প্রশ্নের উত্তর প্রতিষ্ঠানের কাছেই ছিল না।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের দিন, ১৭ আগস্ট পর্যন্তও, ঘর তিনটি নিয়ে তোলা প্রশ্নের কোনো লিখিত জবাব আসেনি। প্রথম যোগাযোগের (২২ জুলাই) পর কেটে গেছে ২৬ দিন- তিন দফা লিখিত চেষ্টার শেষটির (৩ আগস্ট) পরও দুই সপ্তাহ।

মূল প্রতিবেদন: ২৪৮ জন বনাম ২ জন: যে তুলনাটা আর কেউ করতে পারবেন না