সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

ফটিকছড়িতে আওয়ামী লীগ নেতা সাজানো বিএনপি কর্মীর কারামুক্তি

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১৯ অগাস্ট ২০২৬ | ২:১০ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের জালিয়াতির শিকার হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে ১৬ দিন কারাভোগের পর মুক্তি পেয়েছেন বিএনপি কর্মী মো. নুরুল আজম।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি লাভ করেন বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ২ আগস্ট থানা পুলিশের প্রতিবেদনে একটি রাজনৈতিক মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল, যা নিয়ে উপজেলাজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ৫৪ বছর বয়সী মো. নুরুল আজম ফটিকছড়ি পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পরান চৌধুরী বাড়ির মৃত হাজী মো. ইউনুসের ছেলে।

মামলায় পৌর আওয়ামী লীগের কমিটির কাগজে কাটছাঁট করে জালিয়াতির মাধ্যমে তাঁকে সহসভাপতি হিসেবে দেখানো হয়।

প্রকৃতপক্ষে ওই কমিটির ৬ নম্বর ক্রমিকের সহসভাপতি পদে রয়েছেন মো. জয়নাল আবেদীন।

স্থানীয়রা জানান, মো. নুরুল আজম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

পরবর্তীতে তিনি বিএনপির সদস্যপদ গ্রহণ করেন এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালে ফটিকছড়ি পৌর বিএনপির সদস্যপদ নবায়ন করেন।

স্থানীয়দের মতে, শিক্ষিত ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত নুরুল আজম উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) আজিমুল্লাহ বাহারের অনুসারী হওয়ায় একটি পক্ষ তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে।

ফটিকছড়িতে বিএনপির দুটি বিবদমান পক্ষ থাকায় এই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সৃষ্টি হয়েছে বলে সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

কারামুক্ত মো. নুরুল আজম জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর যাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে সেই দলের নেতা সাজিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এই ষড়যন্ত্রের কারণে তাঁর স্ত্রী ও এক মাসের শিশু সন্তানকেও চরম হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

রাজনৈতিক পরিচয় ভুলভাবে উপস্থাপন করে স্পর্শকাতর মামলায় জড়ানোর ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির মাধ্যমে প্রতিকার দাবি করেছেন তিনি।

ফটিকছড়ি থানার ওসি মো. রবিউল আলম খান জানান, মূলত একটি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

ঘটনাটি রাজনৈতিক মামলা কি না তা আদালত বিবেচনা করবে এবং ভুক্তভোগীর প্রতিকার চাওয়ার অধিকার রয়েছে বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা মন্তব্য করেন।