
দুই কোটি টাকার ঊর্ধ্বের ক্রয়-প্রস্তাব অনুমোদন হয় মন্ত্রণালয় পর্যায়ে। দুই কোটি টাকার ঊর্ধ্বের ক্রয়-প্রস্তাব অনুমোদন হয় মন্ত্রণালয় পর্যায়ে। ছয় চুক্তির মধ্যে দুটি সেই সীমা ছাড়িয়েছে; সেগুলোর ফাইল একাধিক টেবিল ঘুরেছিল। দুই “প্রতিযোগীর” মালিক যে একজন- এই তথ্যটি কোথাও থামেনি। কেন, তা জানতে চেয়ে প্রশ্ন গিয়েছিল। জবাব আসেনি।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ
৬ আগস্ট সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর কাছে ছয়টি লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হয়; অনুলিপি যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস ও মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানের কাছে। সঙ্গে ছয়টি চুক্তির পূর্ণ তালিকা- টেন্ডার আইডি, মূল্য, প্রতিষ্ঠানের নাম, প্রকৃত মালিকের নাম ও ই-জিপির লিংকসহ।
যা জানতে চাওয়া হয়েছিল: (১) মন্ত্রণালয় পর্যায়ে ক্রয়-প্রস্তাব অনুমোদনের সময় দরদাতার প্রকৃত মালিকানা যাচাই করা হয় কি না; (২) এই চুক্তিগুলোর ক্ষেত্রে বিষয়টি কোনো স্তরে নজরে এসেছিল কি না; (৩) একই মালিকের একাধিক প্রতিষ্ঠান একই দপ্তরের ক্রয়ে অংশ নিলে তা শনাক্ত করার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা আছে কি না; (৪) এ বিষয়ে দাখিল হওয়া অভিযোগগুলোর অবস্থা কী; (৫) মূল্যায়ন কমিটির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের প্রতিকার কতটা কার্যকর; (৬) ভবিষ্যতে এমন ঘনত্ব ঠেকাতে কোনো নির্দেশনা বিবেচনাধীন আছে কি না।
ফল: ১৯ আগস্ট পর্যন্ত তিন ঠিকানার একটি থেকেও জবাব আসেনি।
যেটুকু জানা গেছে: মন্ত্রণালয়ের অবস্থান সম্পর্কে যেটুকু জানা যায়, তা এসেছিল জুন মাসে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের হাসপাতাল অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান তখন জানিয়েছিলেন, দরপত্র প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্টরা লিখিত অভিযোগ দিতে পারেন; অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বক্তব্যটি বিধিসম্মত- কিন্তু এতে ব্যবস্থাটির একটি বৈশিষ্ট্য ধরা পড়ে: কেউ অভিযোগ না করলে কিছুই হয় না। অথচ এই চুক্তিগুলো নিয়ে অন্তত চারজন ঠিকাদার দুদক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড
২২ জুলাই বিউবো চট্টগ্রামের প্রধান প্রকৌশলীকে লিখিত প্রশ্ন যায়; এরপর দুই দফা তাগাদা। ৩০ জুলাই জনসংযোগ বিভাগের ই-মেইল থেকে জবাব আসে একটি স্ক্যান করা পাতায়- কোনো প্যাডে নয়, কারও নাম নেই, সই নেই, পদবি নেই।
জবাবে বলা হয়, কোটেশনে “৫টি ভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ জানানো হয় এবং তিনটি প্রতিষ্ঠানের কোটেশন জমা পড়ে”- যা বিধিসম্মত। মালিকানা প্রসঙ্গে: “মালিকানা যাচাইয়ের জন্য টিন ও বিন এর তথ্যাদির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়… এবং এই ভাবেই প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা হয়।”
কোথাও বলা হয়নি দুই প্রতিষ্ঠানের মালিক আলাদা। তথ্যটি অস্বীকার করা হয়নি; বলা হয়েছে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।
যা দাঁড়ায়। জবাবদিহি চাইতে গিয়ে যা মিলল, তা জবাব- জবাবদিহি নয়।
১২ আগস্ট একই দপ্তরে দ্বিতীয় আবেদন যায়- ২৭টি দরপত্রের উন্মুক্তকরণ শিট, দরদাতাদের তালিকা এবং দুই প্রতিষ্ঠান কখনো একই দরপত্রে অংশ নিয়েছিল কি না, তা জানতে চেয়ে।
১৬ আগস্ট একই দপ্তরে তৃতীয় আবেদন যায়- জবাবের জন্য অতিরিক্ত সময় দিয়ে, ১৮ আগস্টের মধ্যে জবাব দিতে অনুরোধ করা যায়। কিন্তু ১৯ আগস্ট পর্যন্ত জবাব আসেনি।
বিউবোর বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন আহমেদকে আজ ১৯ আগস্ট দুপুরে একাধিকবার ফোন করা হয়। তিনি ফোন ধরেননি; একবার সংযোগ কেটে দেন।
মূল প্রতিবেদন: ‘এটা ১০০% পেতে পারি আমি’: এক মালিকের দুই প্রতিষ্ঠান, ৮২ শতাংশ কাজ