সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

পেন্সিলের দাগ: এক দপ্তরের ফাইলে যা লেখা, খাতায় যা নেই

শরীফুল রুকন | প্রকাশিতঃ ২০ অগাস্ট ২০২৬ | ৫:১৫ অপরাহ্ন

আনোয়ারা উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরে ১৯ জুলাই সকালের এক ঘণ্টা।

তাহাসিন এন্টারপ্রাইজের ২৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকার চুক্তিটিতে দশটি কাজ। প্রশ্ন ছিল সরল- কতগুলো শেষ?

ফাইলের পাতা উল্টে উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহেদুল আলম চৌধুরী পড়ে শোনালেন আটটি ক্রম: ২, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০।

সরেজমিনে দেখা ৭ ও ১০ নম্বর- দুটি গাইড ওয়ালই মাঠে নেই, এ কথা তোলার পর তিনি কক্ষের বাইরে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসাইনকে ফোন করেন। ফোন রাখতেই হিসাব বদলায়: ৭, ৮ ও ১০- তিনটি হয়নি।

দুই হিসাবের ফারাক নিয়ে প্রশ্ন করার পর তিনি ফাইল খুলে দেখান: “এই দেখুন, পেন্সিল দিয়ে দাগ দেওয়া হয়েছে, এগুলো হয়নি।”

মন্দিরের গাইড ওয়াল প্রসঙ্গে তাঁর ব্যাখ্যা: “এখন বর্ষাকাল, পুকুর সেচে গাইড ওয়াল করা যাবে না, বর্ষার পর করা হবে।”

“টাকা আসেনি” বলার প্রসঙ্গে তাঁর পাল্টা দাবি- মন্দির কমিটির সদস্য রবি চৌধুরী তো আবেদনই করেননি; আবেদন করেছেন তাঁর দপ্তরেরই এক কর্মচারী, যিনি ওই এলাকার বাসিন্দা। সেই কর্মচারীকে কক্ষে হাজির করা হলে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমি আবেদন করেছিলাম। বর্ষার কারণে কাজ শুরু হয়নি।”

ফিতির মোল্লার বাড়ির গাইড ওয়াল প্রসঙ্গে রাকিব হোসাইন জানান, সেটি সড়কে নয়, দেওয়ার কথা ছিল ওই বাড়ির কবরস্থানের পুকুরে- যদিও দরপত্রে লেখা আছে “সড়কে গাইড ওয়াল নির্মাণ”। ওই সড়কের বাসিন্দা মোহাম্মদ আজম অবশ্য ১৬ জুলাই হাত দেখিয়ে বলেছিলেন, “এখানে রাস্তার পাশে কোনও গাইডওয়াল হয়নি, গাইডওয়াল দেওয়ার প্রয়োজনই তো নাই। আপনি নিজেও তো দেখতে পাচ্ছেন।”

যা দেখা গেল না। কাজ না হলে বিল থেকে সেই অংশ বাদ যাবে- এই দাবিটি যাচাইয়ের একমাত্র পথ ছিল দপ্তরের পরিমাপ বহি ও বিল-নথি। উপজেলা প্রকৌশলী তা দেখাতে রাজি হননি; বলেন, সরকারি নথি দেখানো যাবে না।

লিখিত প্রশ্নমালার জবাবে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহিন উদ্দিন লেখেন, “উত্থাপিত বিষয়সমূহ যাচাই করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মূল প্রতিবেদন: চুক্তির আগেই ১৪৪ প্রকল্পের কাজ শেষ!