
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে।
সাম্প্রতিক এই বন্যায় উপজেলার ৫৮টি গ্রামীণ সড়ক এবং ৬০টি সেতু ও কালভার্ট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সব মিলিয়ে বাঁশখালীতে মোট ১০৯ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতবিক্ষত হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়।
ক্ষতিগ্রস্ত প্রধান সড়কের ৩২টি স্থানে সতর্কতামূলক লাল পতাকা উড়িয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)।
বন্যায় বাঁশখালীর একমাত্র প্রধান সড়কটির বেশ কিছু স্থান ঢলের পানিতে তলিয়ে যায়।
পানি নেমে যাওয়ার পর সড়কটিতে যান চলাচল শুরু হলেও বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।
ফলে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এবং প্রতিদিন গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন চালক ও সাধারণ যাত্রীরা।
সরেজমিনে গিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী দেখা গেছে।
বন্যার পানিতে কার্পেটিং ও ইট উঠে গিয়ে সড়কগুলোর মাটি ধুয়ে-মুছে গেছে এবং বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
এতে সরল ইউনিয়নের মিনজিরিতলা, কাথরিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাগমারা ও মানিকপাঠান এবং শেখেরখীল ইউনিয়নের কোনাখালী এলাকার সড়কগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চাম্বল ইউনিয়নের ডেপুটিঘোনা, শীলকুপ ইউনিয়নের মনকিচর, পৌরসভার জলদী, পুঁইছড়ি ইউনিয়নের বশিরাবাড়ি ও জঙ্গল নাপোড়া এলাকার রাস্তা।
এছাড়া বৈলছড়ি ইউনিয়নের অভ্যারখীল এবং কালীপুর ইউনিয়নের পশ্চিম গুণাগরী, সাধনপুর ও পুকুরিয়া এলাকার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতেও চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রধান সড়কের ক্ষত চিহ্নিত করে সতর্ক সংকেত হিসেবে ৩২টি স্পটে ‘লাল পতাকা’ ওড়ানো হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা জানান, বন্যার পানিতে বাঁশখালী-সাতকানিয়া সড়কটি তলিয়ে ছিল।
পাশাপাশি বাঁশখালীর প্রধান সড়কটিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভাঙন কবলিত স্থানগুলোতে লাল পতাকা দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
তার মতে, এই উপজেলায় সওজের ৬ কিলোমিটার সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী ইউনুস মুন্সী জানান, তার এলাকার অধিকাংশ রাস্তা, ব্রিজ ও কালভার্ট নষ্ট হয়ে গেছে।
৬ নম্বর ওয়ার্ডের বশির উল্লাহ মিয়াজীর বাজার থেকে গাজীরপাড়া সংযোগ সড়ক এবং মাইজপাড়া আলী আকবর চৌধুরী সড়কের বাকি অংশ বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একইসঙ্গে মাইজপাড়া আলী আকবর সড়ক থেকে হেদায়েত আলীপাড়া সংযোগ সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এগুলো দ্রুত সংস্কার করা না গেলে হেঁটে চলাও অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে তিনি জানান।
খানখানাবাদের প্যানেল চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম বলেন, খানখানাবাদ ইউনিয়ন নদীভাঙনের মুখে পড়েছে এবং প্রতিটি দুর্যোগেই এখানকার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন।
বন্যায় অধিকাংশ রাস্তা তলিয়ে গিয়ে গ্রামীণ অবকাঠামো ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
ছনুয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল আমিন ছানুবী জানান, তার ইউনিয়নের মধুখালী, ছোট ছনুয়া ও খুদুকখালীর অধিকাংশ রাস্তা মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।
ছনুয়া খুদুকখালী বাজার থেকে প্রেমবাজার পর্যন্ত সড়কটি খানাখন্দে ভরে গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাঁশখালী উপজেলা প্রকৌশলী ইফরাদ বিন মনির জানান, বন্যায় বাঁশখালীর যোগাযোগ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
তার দেওয়া তথ্যমতে, উপজেলার অভ্যন্তরীণ ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের সংখ্যা ৫৮টি এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ ও কালভার্টের সংখ্যা ৬০টি।
রাস্তার সারফেসসহ সব মিলিয়ে মোট ১০৯ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও কালভার্ট সংস্কারের জন্য উপজেলা প্রকৌশলী ও সওজকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জরুরি ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।