সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

পটিয়ায় কৃষি ব্যাংকের গাফিলতি, নয় বছরেও টাকা মেলেনি

রবিউল হোসেন | প্রকাশিতঃ ২৪ অগাস্ট ২০২৬ | ১২:৩৭ অপরাহ্ন


ম্যানুয়াল থেকে অনলাইন সিস্টেমে এন্ট্রি না করার কারণে চট্টগ্রামের পটিয়ায় এক গ্রাহক মারা যাওয়ার নয় বছর পরও তার হিসাবের টাকা বুঝে পায়নি পরিবার।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পাঁচুরিয়া দিঘীর পাড় শাখায় হিসাবটি কোর ব্যাংকিং সিস্টেমে (সিবিএস) হালনাগাদ না করায় এই দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা তৈরি হয়।

পটিয়া উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের হুলাইন গ্রামের বাসিন্দা আবুল হাশেম চৌধুরী ২০১৭ সালের ২২ সেপ্টেম্বর মারা যান।

তার আগে তিনি ওই শাখায় ৫৪৬ নম্বর একটি সঞ্চয়ী হিসাব খোলেন, যেখানে দুই লাখ তিন হাজার ১৫০ টাকা জমা ছিল।

মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা টাকা তুলতে গেলে তৎকালীন শাখা ব্যবস্থাপক তাদের জানান, আবুল হাশেম চৌধুরীর নামে সেখানে কোনো হিসাব নেই।

দীর্ঘদিন পর ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর তার মেয়ে জেবুন নেছা টাকা উত্তোলনের জন্য লিখিত আবেদন করলে ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়।

আবেদনের পর বর্তমান শাখা ব্যবস্থাপক প্রণব পাল বিষয়টি নিয়ে আঞ্চলিক কার্যালয়ে চিঠি দেন।

তিনি জানান, হিসাবটি সিবিএসে অন্তর্ভুক্ত নেই এবং হিসাব খোলার ফরম ও স্বাক্ষর কার্ডও শাখায় পাওয়া যাচ্ছে না।

এর প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে তৎকালীন শাখা ব্যবস্থাপক জামাল উদ্দীন এবং অবসরপ্রাপ্ত ম্যানেজার অপারেশনকে এই গাফিলতির জন্য দায়ী করে।

জামাল উদ্দীন বর্তমানে ব্যাংকটির দোহাজারী শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।

তিনি জানিয়েছেন, ওই হিসাবে টাকা তছরুপের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে মৃত গ্রাহকের ছেলে শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, নয় বছর ধরে হয়রানির পর ব্যাংক কর্মকর্তারা নিজেদের পকেট থেকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করতে চেয়েছিলেন।

জুন মাসের মধ্যে সেই টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি এবং গত ১০ আগস্ট উত্তরাধিকার সনদসহ অন্যান্য কাগজপত্র চেয়ে নতুন করে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

পাঁচুরিয়া দিঘীর পাড় শাখার বর্তমান ব্যবস্থাপক প্রণব পাল জানান, বাইরের লোকজন দিয়ে অনলাইনে এন্ট্রির কাজ করানোর সময় হিসাবটি বাদ পড়ে যায়। আগের কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণেই এমনটি হয়েছে এবং উত্তরাধিকার সনদ দিলে সম্পূর্ণ টাকাই বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পটিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) এমরান হোসেন জানান, তদন্ত প্রতিবেদনে তৎকালীন ম্যানেজার ও ম্যানেজার অপারেশনকে দায়ী করা হয়েছে এবং টাকা ব্যাংকেই গচ্ছিত আছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) কামরুল ইসলাম জানান, স্বাক্ষর কার্ড না থাকার বিষয়টি সঠিক নয়, এটি কেবল অনলাইন সিস্টেমে এন্ট্রি দেওয়ার সময় বাদ পড়েছিল।

কর্মকর্তাদের নিজেদের পকেট থেকে টাকা দিয়ে সমঝোতার বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন এবং ওয়ারিশরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে পুরো টাকা হস্তান্তর করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন।