
আওয়ামী লীগ যে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করে রাখতে পারেনি, বিএনপি সেই চেষ্টা করলে তাদের ‘কেয়ামত হয়ে যাবে’ বলে মন্তব্য করেছেন বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।
সোমবার বাঁশখালী উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের হলরুমে আয়োজিত উপজেলা পরিষদের মাসিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন।
বিএনপির সমালোচনা করে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের মতো একটি দল জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করতে গিয়ে নিজেরাই নিষিদ্ধ হয়ে গেছে।
বিএনপি এই কাজ করতে গেলে তাদের কেয়ামত হয়ে যাবে বলে তিনি সতর্ক করে দেন।
বাঁশখালীতে বিএনপির বর্তমান কর্মকাণ্ড অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের সঙ্গে একসঙ্গে রাজনীতি করার পরও এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়।
সভায় সম্প্রতি ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন চট্টগ্রাম-১৬ আসনের এই সংসদ সদস্য।
তিনি জানান, বাঁশখালীতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা প্রত্যাশা করা হলেও তা পাওয়া যায়নি।
যেকোনো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের দলীয়করণ না করে যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
যেকোনো প্রকল্প ও নিয়োগে দলীয়করণ আর সহ্য করা হবে না বলে সভায় কর্মকর্তাদের কঠোরভাবে সতর্ক করেন তিনি।
যারা নিজেদের ইচ্ছামতো কাজ করতে চান, তাদের বাঁশখালী থেকে বদলি হয়ে যাওয়ারও পরামর্শ দেন সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।
এছাড়া পরীক্ষায় নকল রোধে সিসি ক্যামেরাসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরও পুনরায় নকলের প্রবণতা দেখা দেওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বৈষম্য দূর করে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক দেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং ১৪টি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার সহকারী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।