সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

পুলিশের টনক নড়ল, কালাম হত্যার তিন আসামির রিমান্ড মঞ্জুর

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২৬ অগাস্ট ২০২৬ | ৩:১০ অপরাহ্ন


অবশেষে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় অটোরিকশাচালক আবুল কালাম হত্যা মামলায় তিন আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

‘হত্যা মামলায় আসামিদের রিমান্ড না চাওয়ায় রহস্য’ শিরোনামে একুশে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পাঁচ দিনের মাথায় পুলিশ এই রিমান্ডের আবেদন করে।

মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইব্রাহীম খলিলের আদালতে এই রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা ও সাতকানিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ জহির আমিন আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া তিন আসামি হলেন- জিয়াউর রহমান জাহেদ, নুরুচ্ছামাদ এবং নুর ইসলাম ওরফে জাপান।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আবু নাছের মো. সাদ্দাম হোসেন আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এর মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে তারা আশা করছেন।

গত ৫ মে সাতকানিয়ার খাগরিয়া ইউনিয়নের মৈশামুড়া এলাকার গরল খাল থেকে কালিয়াইশ ইউনিয়নের বাসিন্দা অটোরিকশাচালক আবুল কালামের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। পরে তার আঘাতপ্রাপ্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. আবুল কাশেম সাতকানিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘদিন মামলাটি ক্লু-লেস অবস্থায় থাকার পর র‌্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকা থেকে জিয়াউর রহমান জাহেদকে গ্রেপ্তার করে।

পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই রাতেই সাতকানিয়ার কেরানিহাট এলাকা থেকে নুরুচ্ছামাদ ও নুর ইসলাম ওরফে জাপানকে গ্রেপ্তার করে সাতকানিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে র‌্যাব।

গত ১৬ আগস্ট তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলেও তখন পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো রিমান্ডের আবেদন করা হয়নি। এ বিষয়ে গত ২০ আগস্ট একুশে পত্রিকায় একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ জহির আমিন জানান, তার আগে এসআই উত্তম রাজবংশী মামলাটি তদন্ত করেছিলেন।

অসুস্থতার কারণে আগে রিমান্ড চাওয়া হয়নি দাবি করে এসআই জহির আমিন জানান, এখন রিমান্ডে নিয়ে আসামিদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে।