সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

মহেশখালীতে ২০ হাজার একর পাহাড়ি জমি অবৈধ দখলে

ফুয়াদ মোহাম্মদ সবুজ | প্রকাশিতঃ ২৮ অগাস্ট ২০২৬ | ৬:২২ অপরাহ্ন


খাসজমি বন্দোবস্ত না থাকায় একদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে বৈধ কাগজপত্রের অভাবে ব্যাংক ঋণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কক্সবাজারের মহেশখালীর প্রকৃত কৃষকেরা।

এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে অবৈধ দখলদাররা গড়ে তুলেছেন খাসজমি বর্গা দেওয়ার এক রমরমা বাণিজ্য।

মহেশখালী উপজেলায় মাতারবাড়ী, ধলঘাটা ও কুতুবজোম ইউনিয়ন ছাড়া অন্য পাঁচ ইউনিয়নে প্রায় ২০ হাজার একর পাহাড়ি সরকারি জমি বছরের পর বছর ধরে বেদখলে রয়েছে।

সরকারি হিসাবে পাহাড়ি জমির পরিমাণ প্রায় ১৮ হাজার একর হলেও জন-জরিপে থাকা আরও প্রায় দুই হাজার একর ধরলে মোট পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২০ হাজার একরে।

স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই বিশাল পাহাড়ি জমিতে দীর্ঘদিন ধরে পান ও ধানসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদন করে আসছেন কৃষকেরা।

কিন্তু সরকারি খাসজমিতে চাষাবাদ করায় অধিকাংশ কৃষকের হাতে বৈধ মালিকানার কোনো কাগজ নেই।

ফলে নিজ নামে খতিয়ানভুক্ত জমি ব্যাংকে বন্ধক রাখার শর্ত পূরণ করতে না পারায় তারা কৃষিঋণ নিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত বাধার মুখে পড়ছেন।

এ বিষয়ে মহেশখালী উপজেলার বাসিন্দা শামসুল আলম জানান, সরকার কৃষকদের সুবিধার জন্য ঋণের ব্যবস্থা করলেও খতিয়ানভুক্ত জমি না থাকায় প্রকৃত চাষিরা সেই সুবিধা নিতে পারছেন না।

শামসুল আলম আরও মনে করেন, পাহাড়ি মৌজাগুলো জরিপের আওতায় এনে বন্দোবস্তের ব্যবস্থা করা হলে সরকার রাজস্ব পাবে এবং চাষিরাও বৈধভাবে জমি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী দখলদাররা সরকারি পাহাড়ি ভূমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে তা কৃষকদের কাছে বর্গা দিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায় করছেন।

একই সঙ্গে বন বিভাগের সঙ্গে যোগসাজশ করে কিছু দখলদার এসব অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

বন বিভাগের আওতাধীন এলাকায় বনায়নের জন্য জমি নির্ধারণের পর উচ্ছেদ করতে গেলে দখলদারদের সঙ্গে অনেক সময় বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন জমির ক্ষেত্রে বনভূমির শ্রেণি, রেকর্ড ও ব্যবস্থাপনা বিধি বিবেচনায় নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, আইনি প্রক্রিয়ার এই দুর্বলতা ও মাঠপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দখলদাররা দীর্ঘদিন ধরে তাদের নিয়ন্ত্রণ টিকিয়ে রেখেছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বন বিভাগের বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক জরিপ, শ্রেণি নির্ধারণ, রেকর্ড সংরক্ষণ ও দখল শনাক্ত করা ছাড়া পাহাড়ি সরকারি জমি বেদখলমুক্ত করার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান কোনোভাবেই সম্ভব নয়।