
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিবন্ধন ছাড়াই বেশ কিছু কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে। তবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সরকারি হিসাবে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৯। এর মধ্যে ২৬টি কিন্ডারগার্টেন এবং তিনটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
সম্প্রতি সারা দেশের নিবন্ধনহীন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টের রুল জারির পর ফটিকছড়ির এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়েও প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে সরকারি তালিকার বাইরে আরও প্রতিষ্ঠান থাকার অভিযোগ থাকায় উপজেলায় প্রকৃত নিবন্ধনহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রোববার এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ দেশের ৩৩ হাজার ৬১৪টি অনিবন্ধিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।
রুলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সরকারি তালিকায় ২৯
ফটিকছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় নিবন্ধনহীন ২৬টি কিন্ডারগার্টেন ও তিনটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের আওতায় আসার বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা কার্যালয়।
তবে স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট পরিসরে আরও কিছু কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ ও হালনাগাদ তালিকা উপজেলা প্রশাসন বা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের কাছে নেই।
এ কারণে সরকারি হিসাবে ২৯টি প্রতিষ্ঠান থাকলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ফটিকছড়ি কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর সংগঠনের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা জানতে চাওয়া হলে তিনি পরে এ বিষয়ে মন্তব্য করবেন বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
আইনে নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা
‘দ্য রেজিস্ট্রেশন অব প্রাইভেট স্কুলস অর্ডিন্যান্স, ১৯৬২’-এর ৩ ধারায় নিবন্ধন ছাড়া বেসরকারি বিদ্যালয় পরিচালনার বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে। আইন ও বিধিমালা অনুসরণ না করে কোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
হাইকোর্টে রিটের শুনানিতে আইনজীবী মো. কাওসার হোসাইন বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী দেশে ৩৪ হাজার ৬১২টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে নিবন্ধিত মাত্র ৯৯৮টি। বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে বলেও তিনি আদালতে উল্লেখ করেন।
ব্যবস্থা নেওয়ার কথা প্রশাসনের
ফটিকছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রব বলেন, ‘আমার তথ্যমতে ফটিকছড়িতে ২৬টি কিন্ডারগার্টেন ও তিনটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তাদের যথাযথ নিবন্ধনের আওতায় আসার বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘নিবন্ধনের বাইরে থেকে যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ‘আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। যারা নিয়মনীতি মেনে কাজ করবে না, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
স্থানীয় অভিভাবকদের দাবি, সরকারি তালিকার বাইরে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো চিহ্নিত করতে পুরো উপজেলায় সমন্বিত জরিপ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নিবন্ধনের আওতায় আনা এবং আইন লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাঁদের।