
ফেসবুকে ছবি পোস্ট করার জেরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে মোহাম্মদ মোবারক নামের এক স্বেচ্ছাসেবক দল কর্মীকে মারধর করে কানের পর্দা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনায় ছনুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক জাকের উল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মোহাম্মদ মোবারক বাদী হয়ে বাঁশখালী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানাজানি হয়।
মামলায় জাকের উল্লাহসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত জাকের উল্লাহ ছনুয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মাতব্বরপাড়ার মৃত আবদুল কাদেরের ছেলে।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী মোহাম্মদ মোবারক ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল্লাহপাড়ার শিব্বির আহমদের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট মোহাম্মদ মোবারকের ফেসবুক আইডিতে জাকের উল্লাহর একটি ছবি পোস্ট করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হন ওই আওয়ামী লীগ নেতা।
এর জেরে ২৬ আগস্ট সকালে ছনুয়া মনুমিয়াজী বাজারে অবস্থিত ‘জয়নাল ফার্নিচার মার্ট’ নামের দোকানে কাজ করার সময় মোহাম্মদ মোবারকের ওপর হামলা হয়।
সকাল ১০টার দিকে জাকের উল্লাহসহ চার থেকে পাঁচজন ওই দোকানে প্রবেশ করে তাকে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় নিয়ে যান।
ফেসবুকে ছবি পোস্ট করার কারণ জানতে চেয়ে তারা মোহাম্মদ মোবারককে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে বাম কানে জোরে ঘুষি মারা হলে তার কান ফেটে রক্ত বের হতে থাকে। পরে মাটিতে ফেলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠি দিয়েও মারধর করা হয়।
অবস্থা গুরুতর হলে হামলাকারীরা তাকে ফেলে চলে যান। পরে ফার্নিচার দোকানের কর্মচারীরা তাকে উদ্ধার করে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম শহরে পাঠানো হয়।
চট্টগ্রামে নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরীক্ষার পর জানা যায়, মোহাম্মদ মোবারকের বাম কানের পর্দা ফেটে গেছে। ওষুধে কাজ না হলে অস্ত্রোপচার করতে হতে পারে বলেও চিকিৎসক জানান।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ মোবারক বলেন, আমি এখন বাম কানে শুনতে পাই না এবং শোঁ শোঁ শব্দ হয়। মারধরের পরও আওয়ামী লীগ নেতা জাকের উল্লাহ আমাকে লাগাতার প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বাঁশখালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুভাষ পাল জানান, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আসামিকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।