
মাদকসহ আটক কোনো ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নিতে তদবির করা হলে তদবিরকারীর বিরুদ্ধেও একই মামলা দেওয়া হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।
অবৈধ বালু উত্তোলনের একটি ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি জানান, বাবার দাফনের পর থেকে তাঁর কলিজা শক্ত হয়ে গেছে। মাদকের সঙ্গে কাছের মানুষ জড়িত থাকলেও বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক মাদকবিরোধী র্যালি ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।
সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী জানান, প্রায়ই ইয়াবা বা মাদকসহ আটক যুবকদের ছাড়িয়ে নিতে পরিচিত অনেকেই থানার বাইরে অপেক্ষা করেন। এখন থেকে থানায় নির্দেশ দেওয়া আছে, এ ধরনের তদবিরকারীদেরও মাদক মামলায় আসামি করা হবে।
সমাবেশে তরুণদের উপস্থিতি কম হওয়ার বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, তরুণেরা আশপাশের মাদক কারবারিদের চেনে বলেই হয়তো অস্বস্তিতে সমাবেশে আসেনি। তাই সমাজ সংস্কারে উপস্থিত মুরব্বিদের বেশি দায়িত্ব নিতে হবে।
এই সমাবেশে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম।
মাদকের পুরো চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার তাগিদ দিয়ে তিনি জানান, মাদকসেবী ও বহনকারীদের পাশাপাশি খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ী এবং বিদেশ থেকে সরবরাহকারীদেরও ধরা অত্যন্ত জরুরি।
এসপি মাসুদ আলম মাদককে ‘সব অপরাধের মা’ আখ্যায়িত করে উল্লেখ করেন, মাদক থেকেই খুন, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো গুরুতর অপরাধের জন্ম হয়। মাদকের কারণে সন্তান মা-বাবাকেও হত্যা করতে পারে।
তিনি আরও জানান, অনেক অভিভাবক সন্তানদের খোঁজখবর রাখেন না এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে সমাজে মাদক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। এর বিরুদ্ধে এখনই সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
র্যালি ও সুধী সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল), রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক।
পাশাপাশি বিভিন্ন সাংবাদিক এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন।