
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার খরনায় শাহজাহান আউলিয়া এতিমখানা ও হেফজখানা পরিচালনা কমিটির কর্তৃত্ব নিয়ে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে একটি সভার আয়োজন করা হলেও সংঘাতের আশঙ্কায় পুলিশ তাতে বাধা দেয়।
মূলত ২২ বছর ধরে ঘুরেফিরে একই ব্যক্তিদের দিয়ে গঠিত কমিটির বিরুদ্ধে আর্থিক অসংগতিসহ নানা অভিযোগ ওঠায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, পূর্ববর্তী কমিটির সভাপতি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক গোলাম মওলা চৌধুরী।
সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন কচুয়াই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম শামীম।
কমিটির অধিকাংশ সদস্য আওয়ামী লীগ সমর্থিত হলেও অর্থ সম্পাদক ছিলেন বিএনপি সমর্থিত ও কচুয়াই ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ জাগির হোসেন মেম্বার।
ওই কমিটির মেয়াদ আট মাস আগে শেষ হওয়ায় গত ২৯ আগস্ট একটি সভা আহ্বান করা হয়েছিল।
কিন্তু আর্থিক হিসাবে অসংগতি থাকার অভিযোগ তুলে এক পক্ষ ওই বৈঠক প্রত্যাখ্যান করে।
সেদিন সিদ্ধান্ত হয়, এতিমখানার আশপাশের ৩৩ পাড়ার লোকজন উপস্থিত হয়ে নিজেদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন করবেন।
সেই সিদ্ধান্তের আলোকে শনিবার সকালে গ্রামের লোকজন ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা মাজার প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। পরে পুলিশ সেখানে গিয়ে তাদের সভা করতে বাধা দেয়।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি পক্ষ কর্তৃত্ব ধরে রেখে আর্থিক অনিয়ম করেছে।
তারা ভোটাভুটির মাধ্যমে ৩৩ পাড়ার গ্রহণযোগ্য প্রতিনিধিদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান।
মাদ্রাসার সুপার মোহাম্মদ জাকের উল্লাহ জানান, আওয়ামী লীগপন্থীরা নামসর্বস্ব কমিটি করে দানবাক্স ও অনুদানের টাকার কোনো হিসাব কখনো দেননি।
তারা সভা না করেই রেজুলেশন খাতায় অন্যদের স্বাক্ষর নিতেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
পটিয়া উপজেলা শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি ও স্থানীয় বাসিন্দা শেখ সালমান জানান, আর্থিক হিসাব না দিয়ে নামসর্বস্ব কোনো কমিটি স্থানীয়রা মেনে নেবেন না।
ভোটাভুটির মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হলে কারও আপত্তি থাকবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বর্তমান কমিটির অর্থ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা মোহাম্মদ জাগির হোসেন মেম্বার জানান, আওয়ামী লীগ আমলে গঠিত কমিটিতে তাঁকে রাখা হয়েছিল।
এখন আওয়ামী লীগপন্থীদের বাদ দিয়ে কমিটি গঠন করা হবে উল্লেখ করে তিনি জানান, আওয়ামী লীগপন্থীরা ঝামেলা করায় তাঁরা পুলিশের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
এ বিষয়ে পটিয়া থানার ওসি (তদন্ত) যুযুৎশু যশ চাকমা জানান, সাবেক ইউপি সদস্য জাগির হোসেনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সেখানে যায়। সংঘাতের আশঙ্কায় মাজার ও এতিমখানা প্রাঙ্গণে কাউকে সভা করতে দেওয়া হয়নি।