
রবি মৌসুমে প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হয় ৩ থেকে ৪ টাকায়। সেই একই টমেটো এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। পার্থক্যটা শুধু সময়ের। সাতকানিয়ার কৃষক আবুল হাশেম সেই পার্থক্যটা বুঝতে পেরেছেন এ বছরই। জুনের শুরুতে ২৪ শতক জমিতে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটো লাগিয়েছিলেন। মোট খরচ ৫০ হাজার টাকা। এরই মধ্যে ৪০ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি হয়ে গেছে। আর খেতে যা আছে তাতে আশা করছেন মোট ৪ লাখ টাকার বিক্রি- মানে খরচ বাদ দিলেও সাড়ে তিন লাখ টাকার লাভ।
বর্ষার ফাঁকা জমিতে লুকিয়ে আছে সোনা
সাতকানিয়ার ছদাহা ইউনিয়নের খোর্দ কেঁওচিয়া ব্লকে জুন থেকে আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত এলাকার অনেক জমি খালি পড়ে থাকে। বর্ষার পানিতে চাষাবাদ কঠিন বলে কৃষকরা অপেক্ষায় থাকেন। সেই ‘ফাঁকা সময়’কেই সোনায় পরিণত করেছেন আবুল হাশেম আর আবুল ফয়েজ।
মিঠার দোকান ও মাঝের পাড়া এলাকায় সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, সড়কের পাশে সারি সারি টমেটোগাছ। কোনো গাছে কাঁচা, কোনোটায় পাকা টমেটো। একই গাছে এক পাশে টমেটো পাকছে, অন্য পাশে নতুন ফুল ফুটছে।
আবুল হাশেম জানান, জুনে চারা রোপণের পর ভারী বৃষ্টিতেও একটি গাছেরও ক্ষতি হয়নি। ১৫ দিনের মধ্যে ফুল আসে, ৬০তম দিন থেকে টমেটো সংগ্রহ শুরু। ৭০ দিনেই চারবার সংগ্রহ হয়েছে।
আগে পেঁপে বাগান ছিল ওই জমিতে। পেঁপের মালচিং পেপার ও খুঁটি সরাসরি টমেটোতে ব্যবহার করেছেন। এতে খরচও কমেছে।
গ্রাফটিং পদ্ধতিতে বদলে গেল হিসাব
কৃষি কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, বেগুন চারার গোড়ার সঙ্গে উচ্চফলনশীল টমেটো চারার ওপরের অংশ জোড়া লাগিয়ে তৈরি হয় গ্রাফটিং চারা। এই চারায় রোগবালাই কম, ফলন বেশি। মালচিং পেপার ব্যবহারে আগাছা জন্মায় না, মাটির আর্দ্রতা থাকে, শিকড়ে পচন ধরে না।
১০ শতক জমিতে চাষ করেছেন আবুল ফয়েজ। ২০ হাজার টাকা খরচে ইতিমধ্যে কয়েক দফা টমেটো বিক্রি করেছেন ১০০ টাকা কেজিতে। প্রতিটি গাছে ১ থেকে ৩ কেজি টমেটো রয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে খরচের ৪ থেকে ৫ গুণ লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি।
সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব খাত থেকে আটজন কৃষককে প্রদর্শনী প্লট দেওয়া হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় এলাকার অন্য কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
আবুল হাশেমের পরিকল্পনা আরও বড়। আগামী বছর ৮ থেকে ১০ কানি জমিতে গ্রাফটিং চারায় টমেটো চাষ করবেন। বর্ষায় ফাঁকা পড়ে থাকা সাতকানিয়ার জমি যে আসলে সোনার খনি হতে পারে, সেটা এই দুই কৃষক এ মৌসুমেই প্রমাণ করে দিলেন।