সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

বাবার সরকারি অফিসে ছেলের আধিপত্য, ভাগাভাগি হচ্ছে ঘুষের টাকা

সাজ্জাদুল ইসলাম | প্রকাশিতঃ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:২৫ অপরাহ্ন


নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার দেওটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) জয়নাল আবেদিন ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে।

সরকারি কোনো নিয়োগ ছাড়াই জয়নাল আবেদিনের অফিসে তাঁর সহকারী হিসেবে কাজ করছেন ছেলে নাইম হোসেন।

সম্প্রতি এক নারীর কাছ থেকে জমির নামজারির জন্য ৯ হাজার টাকা ঘুষ দাবির একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে।

জানা যায়, ওই নারী চড়া সুদে ৮ হাজার টাকা জোগাড় করে দিলেও আরও এক হাজার টাকার জন্য ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদিন দরকষাকষি করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জয়নাল আবেদিনের সিন্ডিকেটে পাঁচ থেকে সাতজন দালাল রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন মতিউল ইসলাম শামিম, সাহাদাত হোসেন ও অফিস সহকারী মোস্তফা।

এই দালালদের সংকেত ছাড়া ভূমি অফিসে কোনো ফাইলের কাজ হয় না। এর পাশাপাশি তহসিলদারের ছেলে নাইম হোসেন সরকারি সেবা দেওয়ার নামে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে খেয়ালখুশিমতো অর্থ আদায় করছেন।

সরকারি ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ই-নামজারির ফি ১ হাজার ১৭০ টাকা, খতিয়ানের অনলাইন বা সার্টিফাইড কপির ফি ১২০ টাকা, মৌজা ম্যাপের প্রতি শিট ৫৪৫ টাকা এবং খতিয়ান সংশোধনের আবেদন ফি ২০ টাকা নির্ধারণ করা আছে।

তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘুষ ও দালালের মাধ্যম ছাড়া সরকারি ফিতে কোনো কাজ করা সম্ভব হয় না।

ঘুষের বিষয়ে জানতে চাইলে তহসিলদার জয়নাল আবেদিন ভিডিওটির সত্যতা স্বীকার করেন।

তিনি দাবি করেন, আদায় করা এই অর্থের ভাগ উপজেলা ভূমি অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও দিতে হয়।

জয়নাল আবেদিন জানান, আনোয়ার দেওটি তহসিল অফিস দেখাশোনা করেন। একইভাবে নাজমুল ও ফরহাদসহ প্রত্যেকে আলাদা আলাদা তহসিল অফিস নিয়ন্ত্রণ করেন।

এসিল্যান্ড এই টাকার ভাগ পান কি না, এমন প্রশ্নে জয়নাল আবেদিন সবাই ভাগ পান বলে মন্তব্য করেন। তবে তাঁর ছেলে নিয়োগ ছাড়াই কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিন জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তিনি প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।