সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

‘গুরুমা’ মৌসুমী হত্যায় গ্রেপ্তার ফাল্গুনী হিজড়ার ‘কথিত স্বামী’

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৩:০৬ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের খুলশী থানার আমবাগান রেলওয়ে কলোনি এলাকায় হিজড়া নেত্রী মোহাম্মদ মহসীন ওরফে মৌসুমী হিজড়াকে (৫২) মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় মো. মোমিন ওরফে শেখ রনি (৩৪) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার মোমিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল থানার সব্দলপুর গ্রামের বাসিন্দা।

বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানার সাগরিকা স্টেডিয়ামের পাশে খ্রিষ্টান পাড়া বা পাঠানপাড়া এলাকায় ফাল্গুনী হিজড়া নামের এক হিজড়া নেত্রীর বাড়িতে থাকতেন।

পুলিশ জানিয়েছে, মোমিন স্থানীয়ভাবে ফাল্গুনী হিজড়ার ‘কথিত স্বামী’ হিসেবে পরিচিত।

খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোহাম্মদ নাসিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মোমিনকে শনাক্তের পর অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বাসিন্দা মৌসুমী হিজড়া সম্প্রদায়ের একাংশের কাছে ‘গুরুমা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আমবাগান হিজড়া কলোনিতে তাঁর বাসার পেছনে একটি গরুর খামার রয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার খামারের একটি গরু বিক্রি করায় তাঁর ঘরে বিপুল পরিমাণ টাকা ছিল। শনিবার সকালে তাঁর আরও গরু কিনতে যাওয়ার কথা ছিল।

হত্যাকাণ্ডের পর ঘর থেকে গরু বিক্রির টাকা এবং মৌসুমীর ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন পাওয়া যায়নি। ফলে টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী লুটের উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।

এর আগে, গত শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাসা থেকে মৌসুমী হিজড়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ বাসার কাছের একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ উদ্ধার করে।

ফুটেজে দেখা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ১৪ মিনিটে সাদা টি-শার্ট পরা এক যুবক মৌসুমীর কক্ষে ঢোকেন এবং দীর্ঘ সময় পর রাত ৩টা ৫২ মিনিটে বেরিয়ে যান।

প্রতিবেশীদের তথ্যমতে, শুক্রবার রাত ১টা পর্যন্ত মৌসুমী তাঁদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে গল্পগুজব করে ঘুমাতে যান।

ভোররাতের দিকে তাঁর ঘর থেকে বাগ্‌বিতণ্ডার শব্দ শোনা গেলেও পরিচিত কারও সঙ্গে কথা বলছেন ভেবে প্রতিবেশীরা তখন গুরুত্ব দেননি।

শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত তিনি ঘুম থেকে না ওঠায় প্রতিবেশী ও হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্য পাখি রহমান তাঁর খোঁজে যান।

পাখি রহমান জানান, সকালে ঘরে ঢুকে তিনি মৌসুমীর মুখ দিয়ে রক্ত এবং জিহ্বা বেরিয়ে থাকতে দেখেন। তাঁর চোখও ফোলা ছিল। পরে আশপাশের সবাইকে ডেকে তিনি পুলিশে খবর দেন।