সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

বাঁশখালীতে শিক্ষক সংকটে ধুঁকছে ১৬০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন | প্রকাশিতঃ ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:০৭ পূর্বাহ্ন


চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় ১৬০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান ও সহকারী শিক্ষক মিলিয়ে ১৮৭টি পদ শূন্য থাকায় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি বাঁশখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসেও দেখা দিয়েছে প্রকট জনবল সংকট।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, ১৬০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ১৬০টি।

এর বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৭২ জন এবং শূন্য রয়েছে ৮৮টি পদ।

প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ৫৩ জন শিক্ষক চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষকের কাজ করছেন।

অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষকের ৯৭৩টি অনুমোদিত পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৮৭৪ জন। সহকারী শিক্ষকের ৯৯টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৩ হাজার ২৪৬ জন।

এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক সংকট থাকায় পাঠদান, প্রশাসনিক দায়িত্ব ও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় কর্মরত শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

বাঁশখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসেও উল্লেখযোগ্য জনবল ঘাটতি রয়েছে।

অনুমোদিত সাতটি সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন, বাকি ছয়টি পদই শূন্য রয়েছে।

একইভাবে অফিস সহকারীর দুটি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কোনো জনবল কর্মরত নেই।

তবে উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক ও হিসাব সহকারী পদে জনবল কর্মরত থাকলেও অফিসের সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় জনবল ঘাটতি রয়ে গেছে।

বিদ্যালয় পর্যায়ে দপ্তরি কাম প্রহরীর ৬৯টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৬৫ জন কর্মরত আছেন এবং চারটি পদ শূন্য রয়েছে।

এই জনবল সংকটের বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল হামিদ জানান, শিক্ষক ও শিক্ষা অফিসের জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে।

শূন্য পদগুলো পূরণ হলে বিদ্যালয়ের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক শুধু প্রশাসনিক দায়িত্বই পালন করেন না, তিনি বিদ্যালয়ের একাডেমিক নেতৃত্ব ও শিক্ষকদের সমন্বয়েরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকেন।

দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকা এবং সহকারী শিক্ষক পদে বড় ঘাটতি থাকায় প্রাথমিক শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদ্যালয়ে স্থায়ী নেতৃত্বের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাঁশখালীতে ১৬০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি ৬০টি কিন্ডারগার্টেন রয়েছে।

২০২৬ সালের শিশু জরিপ অনুযায়ী, উপজেলায় জরিপকৃত শিশুর সংখ্যা ৬৭ হাজার ৯১০ জন। এর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে ৬৭ হাজার ৫৬৫ জন।

প্রাথমিক শিক্ষায় মোট ভর্তির হার ৯৯ শতাংশ হওয়ায় বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় শিক্ষক এবং শিক্ষা অফিসের শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করা জরুরি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।