
আদালতের বিচারাধীন বিষয় ও স্থিতাদেশ অমান্য করে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ভুজপুরে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
জমিতে থাকা দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ওই মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ও সন্তানরা।
এ ঘটনায় নিজেদের জানমাল ও সম্পত্তির নিরাপত্তা চেয়ে এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগকারী শিক্ষানবিশ আইনজীবী পেয়ার আহমদ জানান, তাঁর নানা হাজী আজিজুর রহমান খরিদা সূত্রে ওই জমির মালিক ছিলেন এবং তাঁর নামে বি.এস ৩৩ নম্বর খতিয়ান রয়েছে।
পরবর্তীতে পেয়ার আহমদের মা ফাতেমা খাতুন দান ও ক্রয়সূত্রে মোট ৩০ শতক জমি পান। বর্তমানে সেই জমি বি.এস নামজারি ১৯১০ নম্বর খতিয়ানে পেয়ার আহমদের নামে রয়েছে এবং তিনি নিয়মিত সরকারি খাজনা পরিশোধ করে আসছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, জমি সংলগ্ন আরএস রেকর্ডীয় কয়েকজন ব্যক্তি ২০০৮ সালে ফটিকছড়ি সিনিয়র জজ আদালতে ১০৬/২০০৮ নম্বর মোকদ্দমা দায়ের করে স্থিত রাখার আদেশ নেন।
ওই আদেশের বিরুদ্ধে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ৩৯৮/২৪ নম্বর আপিল করা হয়েছে এবং মামলাটি বর্তমানে ৮ম অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে বিচারাধীন।
কিন্তু বিবাদীরা আদালতের নির্দেশ অমান্য করে গত ৪ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল নিয়ে আকস্মিক হামলা চালায়।
ভুজপুর থানার ২ নম্বর দাঁতমারা ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হেয়াকো বেগ বাজারস্থ অভিযোগকারীর মালিকানাধীন দোকান এবং গ্রিন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ গেইটের সামনে এই হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
এ সময় দোকানদার ও জমির মালিককে হত্যার হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করে হামলাকারীরা। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহআলম, তাঁর স্ত্রী ফাতেমা খাতুন এবং ছেলে পেয়ার আহমদসহ ভাড়াটিয়ারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন।
জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া অভিযোগে বিবাদী করা হয়েছে মোট ১১ জনকে।