সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

শর্টসার্কিট থেকে রাঙ্গুনিয়ায় আগুন, পুড়ল ১১টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৬:৫৪ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে একাধিক দোকান ও চিকিৎসকের চেম্বার পুড়ে গেছে।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা অর্ধকোটি টাকার ক্ষতির দাবি করলেও ফায়ার সার্ভিস বলছে, ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকার।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার রানীরহাট বাজারের বগাবিলি রোড সংলগ্ন এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

কাউখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার মোহাম্মদ আরমান উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন।

খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ইয়াছিন আরাফাতের তিনটি দোকান রয়েছে। এসব দোকানে বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও গিফট আইটেম বিক্রি করা হতো। অগ্নিকাণ্ডে তার প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত রফিক স্টোরের স্বত্বাধিকারী রফিক জানান, আগুনে কাপড়, ক্রোকারিজ, লেপ-তোশক ও মুদি দোকানসহ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি একজন দন্ত চিকিৎসকের চেম্বারও পুড়ে গেছে।

সব মিলিয়ে ১১টি দোকানের ৯ জন মালিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানান তিনি। রফিক আরও জানান, আগুনে তার নিজের দোকানের প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে এবং দন্ত চিকিৎসকের চেম্বার থেকে কোনো মালামাল বের করা সম্ভব হয়নি।

ক্ষতিগ্রস্ত অন্য ব্যবসায়ীরা হলেন রাশেদ, শফি, জাকের, একরাম, মহিউদ্দিন, নান্টু ডাক্তার এবং নাম না জানা আরও একজন। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা।

রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। তবে পাশের রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর খবর পেয়ে তারা ফিরে যান।

কাউখালী ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারা মূলত ইয়াছিন আরাফাতের তিনটি দোকানে আগুন দেখতে পান এবং সেখানেই কাজ করেন। তাদের হিসাবে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং ৩০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, শুধু ইয়াছিন আরাফাতের দোকান নয়, আশপাশের আরও কয়েকটি দোকান ও চেম্বার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মোট ক্ষতির পরিমাণ ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।