সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

হৃদরোগ চিকিৎসায় এগোচ্ছে চট্টগ্রাম, তরুণদের দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ

চট্টগ্রামে আট মাসে ৩ হাজার ৬২০ জটিল হৃদরোগের চিকিৎসা
একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৯:০২ অপরাহ্ন


জটিল হৃদরোগ চিকিৎসায় চট্টগ্রামের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা আরও বাড়াতে তরুণ চিকিৎসকদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই চট্টগ্রাম অঞ্চলের আটটি কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬২০টি পিটিসিএ বা এনজিওপ্লাস্টি সম্পন্ন হয়েছে। এই সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ শতাংশের বেশি।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের সিএসসিআর ক্যাথল্যাব ও পাঁচতারকা হোটেল রেডিসন ব্লু চট্টগ্রামে আয়োজিত দিনব্যাপী এক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন ও প্রশিক্ষণে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

‘সিএমই অন কার্ডিয়াক ইন্টারভেনশন’ শীর্ষক এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করে চট্টগ্রাম সোসাইটি অব ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি (সিএসআইসি) এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অব কার্ডিওভাসকুলার ইন্টারভেনশন (বিএসসিআই)। এতে বৈজ্ঞানিক অংশীদার ছিল অ্যাবট ভাস্কুলার।

সম্মেলনে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম অঞ্চলের আটটি কেন্দ্রে মোট ১৭ হাজার ২০টি কার্ডিয়াক ইন্টারভেনশনাল কেস এবং ৪ হাজার ৯৪৪টি পিটিসিএ সম্পন্ন হয়েছিল।

চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই বিভিন্ন ধরনের কেস হয়েছে ১২ হাজার ১টি, যার মধ্যে পিটিসিএ ৩ হাজার ৬২০টি। একই সময়ে কার্ডিয়াক ইন্টারভেনশনাল কেসও ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।

প্রথম আট মাসে সরকারি পর্যায়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৮৬টি পিটিসিএ হয়েছে। বেসরকারি পর্যায়ে সিএসসিআরে ৬৭১টি, ম্যাক্স হাসপাতালে ৬৩৭টি, চিটাগাং মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ৫৪৩টি এবং পার্কভিউ হাসপাতালে ৪৭৯টি পিটিসিএ সম্পন্ন হয়েছে।

সিএসআইসি সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইব্রাহিম চৌধুরী জানান, চট্টগ্রামে হৃদরোগের ইন্টারভেনশনাল চিকিৎসা বাড়লেও রুটিন পিটিসিএ ও জটিল চিকিৎসায় তরুণদের আরও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে।

তিনি নিয়মিত প্রশিক্ষণ, রোগীর তথ্যভিত্তিক রেজিস্ট্রি এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের মেন্টর হিসেবে যুক্ত করার তাগিদ দেন।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সিএসসিআর ক্যাথল্যাবে জটিল হৃদরোগীর করোনারি ইন্টারভেনশনের লাইভ কেস ডেমোনস্ট্রেশন করা হয়। পরে রেডিসন ব্লুতে উদীয়মান ইন্টারভেনশনিস্টদের পরিচালিত জটিল কেসের অডিও-ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক প্রটোকল নিয়ে আলোচনা হয়।

সম্মেলনে আরও আলোচনা করেন বিএসসিআই সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. খালেকুজ্জামান এবং জ্যেষ্ঠ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কায়সার নাসরুল্লাহ খান।

ডা. কাজী শামীম আল মামুন, ডা. মুহাম্মদ খোরশেদ আলম এবং ডা. উম্মেল কুলসুমা নিপার যৌথ সঞ্চালনায় সেমিনারে প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. আবু তারেক ইকবাল, অধ্যাপক ডা. শেখ হাসান মামুন, অধ্যাপক ডা. এম এ রউফ, ডা. এওয়াইএম নুরুদ্দীন জাহাঙ্গীর এবং ডা. বিপ্লব ভট্টাচার্য।

সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইব্রাহিম চৌধুরীর সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এই সম্মেলন শেষ হয়।