
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ঘুষের দাবি মেটাতে না পারায় গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে অন্তত ১৬টি পানের বরজ ধ্বংস করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের রেঞ্জ কর্মকর্তা মনজুর আলমের বিরুদ্ধে।
পূর্ব নোটিশ ছাড়া রাতের আঁধারে চালানো এই অভিযানে বিপুল ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক পানচাষিরা।
শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের সীমানা প্রাচীরের বাইরে ভুইজ্জ্যা ডেপা এলাকার বগাছড়ি খালের তীরে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত পানচাষি নিতাই দে, রতন দে, বৌদ্ধ দে এবং পলাশ দে অভিযোগ করেন, রেঞ্জ কর্মকর্তা মনজুর আলম দীর্ঘদিন আগে লোক পাঠিয়ে তাঁদের কাছে ঘুষ দাবি করেছিলেন। সেই দাবি মেটাতে না পারায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছেন।
তাঁরা জানান, পানের বরজগুলো এমনভাবে কেটে ফেলা হয়েছে যে গাছগুলো এখন সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। শনিবার সকালে পরিচর্যার কাজ করতে গিয়ে চাষিরা এই দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা জানান, দুই যুগের বেশি সময় ধরে পরিত্যক্ত ওই জায়গায় পানের বরজ তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন অন্তত ৫০টি হিন্দু ও মুসলিম পরিবার। ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তাঁরা এই চাষাবাদ করছিলেন।
ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পরিবারগুলো এখন চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। আইন অনুযায়ী গভীর রাতে এমন উচ্ছেদ অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় আইনজীবী, সাংবাদিক ও পরিবেশ সচেতন মহল।
ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন শিপু জানান, পান চাষের মৌসুম শেষ হওয়া পর্যন্ত সময় দিতে তিনি রেঞ্জ কর্মকর্তা মনজুর আলমকে অনুরোধ করেছিলেন। তবে সেই অনুরোধ না রেখেই গভীর রাতে এই অভিযান চালানো হয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রেঞ্জ কর্মকর্তা মনজুর আলমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল ধরেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে তিনবার বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
চকরিয়া উপজেলা বন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানান, গভীর রাতে পানের বরজ উচ্ছেদের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।