একুশে ডেস্ক : সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মধ্যে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ফেলে আসা জায়গা-জমিতে সেনাস্থাপনা নির্মাণ করছে মিয়ানমার। স্যাটেলাইটে ধারণ করা ছবি ও পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে সোমবার এ তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা- অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
সংস্থাটির বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
মিয়ানমারের এমন পদক্ষেপে হাজার হাজার রোহিঙ্গার নিজ ভূমিতে ফিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আরও সংশয় সৃষ্টি হল।
‘রিমার্কিং রাখাইন স্টেট’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি বলছে, স্যাটেলাইটে ধারণ করা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ছবি পেয়েছেন তারা। এছাড়া রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা বেশ কয়েকজনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। এতে দেখা গেছে, রোহিঙ্গাদের ভূমি দখল করে নেওয়া হচ্ছে। তাদের (রোহিঙ্গা) জমির ওপর চলতি বছরের শুরু থেকে দ্রুত গতিতে সামরিক স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।
অ্যামনেস্টির ক্রাইসিস রেসপন্স ডিরেক্টর তিরানা হাসান বার্তাসংস্থা এএফপিকে জানান, ‘রোহিঙ্গাদের যে এলাকায় প্রত্যাবাসন করার কথা সেখানে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জন্য স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। আমরা সব শেষ গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য পেয়েছি। কিছু কিছু এলাকায় এখনো ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সম্পত্তির ওপর নিজেদের জন্য স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি হেলিপ্যাড ও রাস্তা নির্মাণ করছে সেনাবাহিনী।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, রোহিঙ্গাদের জমির একটি অংশে রাখাইনের বসবাসরত আদিবাসী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বসবাসের ব্যবস্থা করা হবে। আরেকটি অংশ অমুসলিম গোষ্ঠীর জন্য ছেড়ে দেওয়া হবে। সেনাবাহিনী এসব কাজের তদারকি করছে।
সংস্থাটি স্যাটেলাইট থেকে যেসব গ্রামের ছবি ধারণ করেছে, তার মধ্যে একটি গ্রাম হল- কান কেয়া। মংডু শহরের কাছের এই গ্রামটিকে জ্বালিয়ে দিয়েছিল মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। দুই মাস আগেও সেখানে ধ্বংসস্তুপের চিহ্ন ছিল। কিন্তু মার্চের শুরুতে সেখানে পাকা ভবন লক্ষ্য করা গেছে।
একই ধরনের ভবন দেখা গেছে ইন দিন গ্রামেও। গত সেপ্টেম্বেরে গ্রামটিতে হত্যাযজ্ঞ চালায় মিয়ানমার সেনারা। অভিযানে অন্তত ১০ জন রোহিঙ্গাকে হত্যা করে তারা।
গত জানুয়ারি থেকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি হয়। তবে রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ার অজুহাতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়নি।
ছয়মাস আগে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের মুখে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। যাকে জাতিগত নিধন হিসেবে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র।
যদিও মিয়ানমার এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তারা বলছে, গত আগস্টে রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) হামলাকে তারা প্রতিহত করছে মাত্র।
আরসাকে বিদ্রোহী আখ্যা দিয়ে মিয়ানমার সেনারা তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে বলে শুরু থেকে দাবি করে আসছে দেশটি। তবে বিদ্রোহীদের বিতাড়নের নামে সংখ্যা লঘু মুসলিমদের মূল উৎপাটনে তাদেরকে হত্যা, ধর্ষণ ও ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিতে থাকে মিয়ানমার।
রাখাইন রাজ্যে মানবাধিকার সংস্থা, গণমাধ্যম ও জাতিসংঘের তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
একুশে / এএ