
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আজীবন ছবি হয়ে ফ্রেমে বন্দী হলেন মার্কিন সিনেটর জন ম্যাককেইন। শনিবার (২৫আগস্ট) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি মস্তিষ্কে টিউমারসংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছিলেন। গত বছরের জুলাই মাসে তার মস্তিষ্কে আগ্রাসী টিউমার ধরা পড়ে। ২০০৮ সালে রিপাবলিকান পার্টির হয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধে ম্যাককেইন পাইলট যোদ্ধা ছিলেন। তার বিমান গুলি করে ভূপাতিত করা হলে তাকে পাঁচ বছর বন্দিজীবন কাটাতে হয়। ম্যাককেইন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচক ছিলেন । ম্যাককেইনের মৃত্যুতে আমেরিকায় শোকের মাতম চলছে।
ম্যাককেইনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায় থেকে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শুরু হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প টুইটার বার্তায় লিখেছেন, ‘সিনেটর জন ম্যাককেইনের পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। আপনাদের জন্য আমাদের ভালোবাসা ও প্রার্থনা রয়েছে।’
২০০৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ম্যাককেইনের রানিং মেট সারাহ পলিন ম্যাককেইনের সঙ্গে তার ছবিসহ টুইটারে লিখেছেন, ‘বিশ্ব একজন প্রকৃত আমেরিকান হারাল।’
ম্যাককেইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বারাক ওবামা বলেছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও যে আদর্শের জন্য আমেরিকান ও অভিবাসী প্রজন্মের লড়াই, অগ্রযাত্রা ও ত্যাগ স্বীকার, তাতে তাদের দুজনের বিশ্বস্ততা এক অন্য উচ্চতায় ছিল।
ম্যাককেইনের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, আমেরিকার ওপর ম্যাককেইনের প্রভাব কখনো শেষ হবে না। ম্যাককেইন প্রমাণ করেছেন, চরিত্র, সাহস আর ন্যায়পরায়ণতা সব সময়ের জন্যই উপযোগী।
রবিবার বিবিসির খবরে বলা হয়, গত শুক্রবার ম্যাককেইনের পরিবারের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসা বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়। ম্যাককেইন মারা যাওয়ার সময় তার পরিবারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
ম্যাককেইনের মৃত্যুর পর তার মেয়ে মেগান টুইটারে লিখেছেন, বাকি জীবন তিনি বাবাকে অনুসরণ করে বাবার ভালোবাসা ও প্রত্যাশা নিয়ে কাটাতে চান। আবেগঘন সেই বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘আমার বাবাকে ছাড়া আসছে দিনগুলো আমার জন্য আগের মতো থাকবে না। কিন্তু সেই দিনগুলোও ভালো হবে, ভালোবাসা ও প্রাণে ভরপুর থাকবে। কারণ, তিনি (ম্যাককেইন) তার জীবনযাপনের উদাহরণ আমাদের সামনে রেখে গেছেন।’
একুশে/এসএইচ/এটি