সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

চিঠির জবাব দেবেন মেয়র আ জ ম নাছির

| প্রকাশিতঃ ১২ অগাস্ট ২০১৬ | ৭:২৩ অপরাহ্ন

Nasir-Uddinচট্টগ্রাম: পাঁচ শতাংশ ঘুষ ছাড়া পর্যাপ্ত প্রকল্প বরাদ্দ পাওয়া যায় না- নিজের এমন বক্তব্যের সমর্থনে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এ নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের চাওয়া চিঠির জবাবও যথাসময়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর মুসলিম হলে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

মেয়র বলেন, মন্ত্রণালয়ের চিঠি দেওয়ার বিষয়টি শুনেছি। আমি আজ (শুক্রবার) সকালে ঢাকা থেকে ফিরেছি। আজ অফিস বন্ধ। কালও বন্ধ। খোলার দিন অফিসে যাব। গিয়ে দেখব। দেখে অফিসিয়ালি যেটি করার সেটি করব। সাত দিনের মধ্যেই জবাব দেব।

ঘুষ দাবির কোন প্রমাণ আছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সবই তো আছে। আমি কি রাস্তার লোক? আমি দায়িত্ব নিয়েই কথা বলেছি এবং দায়িত্ব নিয়েই কথা বলব।

প্রসঙ্গত গত বুধবার থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম (টিআইসি) মিলনায়তনে দিনব্যাপী আয়োজিত ‘নগর সংলাপ’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ ছাড়ের জন্য একটা নির্দিষ্ট অর্থ (বরাদ্দের ৫ শতাংশ) দিতে হয় বলে মন্তব্য করেন। মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা এসেছিলেন। তিনি একটি নতুন পাজেরো জিপ চাইলেন। সেটি দিলে নাকি চসিকের প্রকল্প অনুমোদন বা পাসে কোনো সমস্যা হবে না। আমি কোথা থেকে জিপ দেবো? কেন দেবো? আমাকে বললেন- যত টাকা লাগে পাবেন, ৫ শতাংশ হিসাবে দিয়ে দিতে হবে। আমি বললাম- ৫ শতাংশ এটা কোত্থেকে আসবে? উনি বললেন-কন্ট্রাক্টরদের কাছ থেকে নিয়ে নিবেন এটা। আমি বললাম কন্ট্রাক্টররা আমাকে চোর মনে করবেন না? তারপর পত্রিকায় আসলে এটা কেমন হবে? ৫ শতাংশ এটা কিভাবে কাটবো। আমি কি তাহলে বলবো মন্ত্রণালয়ে দেওয়ার জন্য ৫ শতাংশ দিতে হবে এটা লিখে দিতে। উনি বললেন- সেটা করা যাবে না। আমি বললাম- আমি সেটা করবো না। তারপর আমাকে থোক হিসাবে ৮০ কোটি টাকা দেয়া হল। স্বাভাবিকভাবে দিতে হচ্ছে বলেই এই ৮০ কোটি টাকা দিল। আমি ৫ শতাংশ হিসাবে ছেড়ে দিলে, আমি যেটা চাইতাম সেটা দেয়া হত। অর্থাৎ ৩০০/৩৫০ কোটি টাকা আনতে পারতাম। টাকা দেই নি বলে সেটা পারি নি। এটাই হলো বাস্তবতা।’

মেয়র বললেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে একজন জয়েন্ট সেক্রেটারি এসেছিলেন। উনি আমাদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলেছিলেন, তিনি সব কিছু করে দেবেন, উনাকে একটি গাড়ি দিতে হবে। কিন্তু তিনি (জয়েন্ট সেক্রেটারি) আমাকে ভয়ে কিছু বলেন নি। উনি যাওয়ার পরে প্রধান নির্বাহী আমাকে বললেন- স্যার, আসলে উনি আমাদের কাছে একটি গাড়ি চেয়েছেন। উনাকে গাড়ি দিলে মন্ত্রণালয়ের টাকা ছাড়ের সব ব্যবস্থা করে দেবেন।’ এভাবে দায়িত্ব পালনে পদে পদে বাধা আছে জানিয়ে পরিকল্পিত নগরী গড়তে নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছিলেন সিটি মেয়র।

মেয়র আ জ ম নাছিরের এমন বক্তব্যের পর দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। এ অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে বলে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এছাড়া, এমন অভিযোগ প্রমাণ করার তাগিদ দিয়ে এবং কবে কখন কে ঘুষ দাবি করেছেন তার ব্যাখ্যা চেয়ে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে চট্টগ্রামের সিটি মেয়রকে চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।