সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

চট্টগ্রামে ‘ঘুষের টাকা’ সহ বিটিসিএলের তিনজন গ্রেফতার

| প্রকাশিতঃ ১৭ অগাস্ট ২০১৬ | ৪:০৬ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন বোর্ডের (বিটিসিএল) কার্যালয়ে ঘুষের টাকা লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে দুনীতি দমন কমিশন। এসময় দুই লাখ ৩৪ হাজার নগদ টাকা, ৮৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও ২ লাখ টাকার এফডিআরের কাগজপত্র জব্দ করা হয়। বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের নন্দনকানন এলাকায় অবস্থিত বিটিসিএল কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বিটিসিএল’র বিভাগীয় প্রকৌশলী (আভ্যন্তরীণ) প্রদীপ দাশ, বিটিসিএলের প্রধান সহকারী গিয়াস উদ্দিন ও টেলিফোন অপারেটর হুমায়ুন কবির।

দুর্নীতি দমন কমিশনের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক আব্দুল আজিজ ভুঁইয়া জানান, বিটিসিএল’র অবসরপ্রাপ্ত উপ সহকারী প্রকৌশলী মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম ভুঁইয়ার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় বিটিসিএলের প্রধান সহকারী গিয়াস উদ্দিন ও টেলিফোন অপারেটর হুমায়ুন কবিরকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। পরে গিয়াস উদ্দিনের অফিস কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় তার ও তার স্ত্রীর নামে করা ৮৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও নগদ ৮০ হাজার টাকা। এরপর বিভাগীয় প্রকৌশলী প্রদীপ দাশের অফিস কক্ষে তল্লাশি চালায় দুদক কর্মকর্তারা। তার কক্ষে থাকা আলমারীতে ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় প্রকৌশলী প্রদীপ দাশকেও গ্রেফতার করা হয়। প্রদীপ দাশের আলমারীতে অপারেটর হুমায়ুন কবিরের নামে ২ লাখ টাকার এফডিআরের কাগজপত্র পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান দুদকের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক আব্দুল আজিজ ভুঁইয়া।

অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া দুদক চট্টগ্রামের উপ সহকারী পরিচালক মানিকলাল দাস জানান, ৭ মাস আগে বিটিসিএল’র উপ সহকারী প্রকৌশলী মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম ভুঁইয়া অবসরে যান। তিনি পেনশনের টাকা তুলতে সংশ্লিষ্ট দফতর বরাবর আবেদন করেন। এ সময় প্রধান বিটিসিএল’র প্রধান সহকারী গিয়াস উদ্দিন ও টেলিফোন অপারেটর হুমায়ুন তার কাছ থেকে ঘুষ দাবি করেন। এ অভিযোগ পাওয়ার পর দুদক বিটিসিএল কার্যালয়ে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। বুধবার দুপুরে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কাশেম ভুঁইয়া ঘুষ দেওয়ার সময় প্রধান সহকারী গিয়াস উদ্দিন ও টেলিফোন অপারেটর হুমায়ুন কবিরকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

ভুক্তভোগী আবুল কাশেম ভুঁইয়া বলেন, ৭ মাস আগে আমি অবসরে গিয়েছি। পেনশন ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকার জন্য জন্য আবেদন করি। তারা গিয়াস উদ্দিন ও হুমায়ুন আমার ফাইলটি আগ্রাবাদ অফিসে পাঠাতে হবে জানিয়ে অফিস খরচের নামে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ চায়। আমি মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দেওয়ার পর তারা ২০ হাজার টাকা দাবি করেছিল।