
সুমন চৌধুরী, জনসভা থেকে : সমাবেশকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের নাশকতা রুখে দিতে প্রস্তুত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। সমাবেশস্থল ও এর আশপাশে অবস্থান নিয়েছে অন্তত ৫ শতাধিক পুলিশ। নূর আহমদ সড়ক থেকে সিআরবিমুখী সড়কের মোড়ে রাখা হয়েছে জলকামান।
পুলিশের কড়া উপস্থিতির মাঝেই বিএনপির নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয় সামনে শুরু হয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ। বেলা ২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে আসতে শুরু করেন। আড়াইটার দিকে সমাবেশস্থলে আসেন ড. কামাল হোসেন। একই সময় মঞ্চে আসেন মাহমুদুর রহমান মান্না, আ স ম আব্দুর রব, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মীর্জা আব্বাস, মেজর জেনারলে (অব) মোহাম্মদ ইব্রাহীমসহ ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ইতোমধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা জয়নুল আবেদীন ফারুক, বরকত উল্লাহ বুলু, আমান উল্লাহ আমান, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন বক্তব্য রাখেন।
মিছিল সহকারে সমাবেশে আসা যাবে না মর্মে সিএমপির পক্ষ থেকে শর্ত থাকলেও সেই শর্ত কেউ মানে না। বেলা ১২টা থেকে নানা প্রান্ত থেকে মিছিল নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে আসতে থাকেন। বেলা ২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে বিশাল জনসমাবেশে পরিণত হয় বিএনপি অফিসের সামনে নূর আহমদ সড়ক ও আশপাশের এলাকা। কাজীর দেউড়ি মোড় থেকে লাভলেইন মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত হয় সমাবেশ।
পুলিশের দেয়া শর্ত অনুযায়ী বিএনপি অফিসের সামনে পশ্চিমমুখী মঞ্চ নির্মাণ করে স্টেডিয়াম সংলগ্ন সড়কটি চলাচলের জন্য খোলা রাখা হয়েছে। তবে এই সড়ক দিয়ে যান চলাচলের চেয়ে মানুষের চলাচলই বেশি পরিলক্ষিত হয়।
সমাবেশ চলাকালে বিকেল ৩টার দিকে স্টেডিয়াম প্রান্ত থেকে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে ২০-২৫ জনের একটি মিছিল নৌবাহিনী যাদুঘর হয়ে লাভলেইনের দিকে চলে যায়। এসময় মিছিলটি থেকে ঐক্যফ্রন্ট বিরোধী মিছিল দিতেও শোনা যায়।
সমাবেশ থেকে ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবি মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ কারাবন্দি সকল নেতাকে মুক্তি দিতে হবে। সংবিধানের সংশোধনীর মাধ্যমে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশের ষোল কোটি মানুষের এই সাত দফা দাবি পাশ কাটিয়ে নির্বাচনের চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে বলেও হুঁশিয়ার করা হয় সমাবেশ থেকে।
একুশে/এসসি/এটি
ছবি : আকমাল হোসেন