বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২

‘আমার ভোট আমি দেবো লড়াই করে ভোট দেবো’

| প্রকাশিতঃ ৩০ নভেম্বর ২০১৮ | ৪:৩৫ অপরাহ্ন

ঢাকা : দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, দলীয় সরকার থাকলে কোনও নির্বাচন কমিশনারের জন্য নিরপেক্ষ কাজ করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি পুলিশ ও সিভিল প্রশাসন কারও পক্ষেই নিরপেক্ষভাবে কাজ করা সম্ভব নয়।

শুক্রবার (৩০ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ‘গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন লেভেল প্লায়িং ফিল্ড এবং নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

মওদুদ বলেন, এবারের নির্বাচনে ‘আমার ভোট আমি দেবো লড়াই করে ভোট দেবো’ অবস্থাটা ওই পর্যায়ে এসে গেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়া ঠেকাতে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি প্ল্যান করছে। অ.লীগ যতই প্ল্যান করুক না কেন জনগণ সরকারের উপর এতটাই বীতশ্রদ্ধ যে ৩০ ডিসেম্বর ভোট দেওয়ার সুযোগ তারা পেলেই ধানের শীষ জয়ী হয়ে আসবে।

মওদুদ আরও বলেন, বাংলাদেশের অস্তিত্ব, গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সুস্থ ও সভ্য সমাজ গঠনের জন্য একমাত্র পথ এই ভোট। যা ঐক্যফ্রন্ট, বিএনপি, ২০ দলীয় জোট ও সারা বাংলাদেশের মানুষের জন্য এটি একটি বিরাট সুযোগ। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। কেননা সারাদেশে ধানের শীষের জোয়ার উঠেছে। তারা (ক্ষমতাসীন দল) এটা সামলাতে পারবে না যদি মানুষ তাদের ভোট দিতে পারে।

তিনি আরো বলেন, ভোটের লড়াইটা বিএনপি কিংবা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একার নয়, ১০ কোটি ভোটারদের লড়াই। যত বড় বিপদ হোক, গ্রেপ্তার হন, মার খান, নির্যাতিত হন, মানুষকে একবার গিয়ে বলতে হবে- এটাই একবার সুযোগ। এই ভোট দিলেই বেগম জিয়া জীবনে বাঁচবেন, কারাগার থেকে মুক্ত হবেন। এই ভোট যদি দিতে পারেন, তাহলেই কেবল এই অত্যাচারের হাত থেকে মুক্তি পাবেন।

তিনি বলেন, গত দুদিনে আমাদের তিনজন প্রার্থীকে জেলখানায় পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতার আরও বাড়বে এবং গায়েবি মামলা চলতেই থাকবে। গতকাল আমরা শুনলাম এলাকায় চারটা বিরাট পুলিশবাহিনী এসেছে ট্রাকে করে। তারা বাড়িতে বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে। যাতে কোনও বিএনপি নেতা-কর্মী-সমর্থক বাড়িতে থাকতে না পারেন। আর থাকলেও গ্রেফতার করে নিয়ে যাবে। তারা এমনটি করছে এ কারণে যে, এ সরকার জানে যত কলা-কৌশল, নীল নকশা ও পরিকল্পনাই তারা করুক, মাঠ পর্যায়ে তাদের ভোট নেই।

জাতীয় মানবাধিকার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন— নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।

একুশে/এসসি