চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের আদালত এলাকা থেকে সালাউদ্দিন (২৫) নামের এক টাউটকে ধরে আইনজীবী সমিতির হেফাজতে দিয়েছে আইনজীবী সহায়ক ও বিচারপ্রার্থীরা। বুধবার দুপুর ১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
সালাউদ্দিন নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানাধীন রৌফাবাদ এলাকার লেদু হাজীর ছেলে। তিনি নিজেকে বায়েজিদ বোস্তামি থানার টহল পুলিশের গাড়ীর (চট্টমেট্রো ১১-৫০৫৩) ড্রাইভার বলে দাবি করেছেন।
জানা যায়, নুর মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তিকে ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বায়েজিদের অক্সিজেন এলাকা থেকে আটক করে বায়েজিদ বোস্তামি থানা পুলিশ। খবর পেয়ে নুর মোহাম্মদের ছেলে রাসেল ছুটে যান থানায়। ওই সময় রাসেলের সাথে দেখা হয় সালাউদ্দিনের।
রাসেলের দাবি, নুর মোহাম্মদকে মামলা থকে বাঁচানোর কথা বলে সালাউদ্দিন তার কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা আদায় করে।
রাসেল বলেন, ইয়াবার পরিবর্তে গাঁজার মামলা দিয়ে মামলা হালকা করে দিনে দিনে আদালতের মাধ্যমে মুক্তি করে দেওয়ার চুক্তির প্রস্তাব দেয় সালাউদ্দিন। বিনিময়ে তাকে ৬০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে জানায়। পরে মামলা হালকা করে দেবে উল্লেখ করে ফের ৩ হাজার টাকা নেয় সালাউদ্দিন। এরপর বুধবার সকালে নুর মোহাম্মদের স্বজনদের নিয়ে আদালতে যান সালাউদ্দিন।
তিনি বলেন, আদালতে আসার পর জানতে পারি ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ মামলা দেওয়া হয়েছে এবং দিনে দিনে জামিন নিতে পারার কোন সম্ভাবনা নেই। এ নিয়ে হট্টগোল হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। সেখানে উপস্থিত আইনজীবী সহায়ক ও বিচারপ্রার্থীরা সালাউদ্দিনকে ধরে আইনজীবী সমিতির কাছে হস্তান্তর করে।
বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, সালাউদ্দীন নামে থানার কোন ড্রাইভার নেই। এছাড়া ৫০৫৩ সিরিয়াল নাম্বারের কোন গাড়ি থানায় নেই। সালাউদ্দীন নামের কাউকে আমি চিনি না।
এবিষয়ে চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এসএম জাহেদ হিরু বলেন, টাউট সালাউদ্দীনকে পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।