চট্টগ্রাম : সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু খুন হন ৫ জুন। পরে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, এ খুনের ‘নির্দেশ ও তদারকি’ করে কামরুল সিকদার ওরফে মুছা। এরপর গত ২২ জুন ভোরে বন্দর এলাকার বাসা থেকে মুছাকে পুলিশ আটক করে বলে দাবি করে তার স্ত্রী পান্না আক্তার। কিন্তু পুলিশের দাবি, মুছা এখনো পলাতক রয়েছে। সর্বশেষ তাকে ধরতে বৃহস্পতিবার ৫ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে পুলিশ। এখন প্রশ্ন উঠেছে, মুছা তাহলে কোথায়? নাকি তদন্তের নামে পুলিশ নাটক করছে?
সংশ্লিষ্টরা বলছেন- সাবেক এসপি বাবুল আক্তারকে নিয়ে নাটকের যেন শেষ নেই। আলোচিত এই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে নিয়ে নাটকের শুরু ১৫ ঘণ্টা জেরার ঘটনা দিয়ে। চাকরি থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে- তাও নাটকের অংশ বলেই মনে করছেন অনেকে।
মিতু হত্যায় বাবুল আক্তার জড়িত কিনা, তাকে কেন অব্যাহতি দেওয়া হলো- এমন সব বিষয় স্পষ্টীকরণে আরও নাটক হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, হত্যাকাণ্ডে বাবুল আক্তারের ‘সম্পৃক্ততার’ বিষয়টি এখনো তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তাদের নির্দেশ পেলেই এ হত্যাকাণ্ডের ‘আসল রহস্য’ জনসমক্ষে উন্মোচন হবে।
এদিকে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে পুলিশের খাতায় ‘পলাতক’ মুছা আর বেঁচে নেই। সম্প্রতি বাবুল আক্তারকে চাকরি থেকে অব্যাহতি ও মামলার তদন্তে গতি না থাকায় এই গুজবের ডাল-পালা আরো ছড়িয়েছে।
এ প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার বলেন, মুছাকে গ্রেফতার করলে অথবা গ্রেফতারে সহায়তা করলে তার জন্য আমরা একটা পুরস্কার ঘোষণা করছি। সেটি পাঁচ লক্ষ টাকা।’
মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, মিতু হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত আমরা সাতজনকে গ্রেফতার করেছি। এর মধ্যে দুইজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। মুছার নেতৃত্বে একটি দল এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে। আমরা জেনেছি, মুছার নির্দেশে এবং তদারকিতে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। মুছা স্বপ্রণোদিত হয়ে অথবা কারও নির্দেশে অথবা কারও হয়ে খুন করেছে কি না- সে প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য মুছাকে পাওয়া খুবই জরুরি।
তবে মুছার স্ত্রীর দাবি, তার স্বামীকে গত ২২ জুন ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ। কিন্তু তার স্ত্রীর এই দাবি অস্বীকার করে আসছে পুলিশ।
মুছার স্ত্রী পান্না আক্তার জানান, গত ১২ জুন রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় মুছার বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় তার তিন ভাইকে আটক করে নিয়ে যায়। পরদিন তাদের নিয়ে নগরীর কালামিয়া বাজার এলাকায় মুছার বাসায় অভিযান চালায়। তবে ওই বাসাটি পরিবর্তন করে বন্দর এলাকায় নতুন বাসা নেয়ায় সেখানে মুছাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুছার বন্ধু নবীর কাছ থেকে তথ্য নিয়ে গত ২২ জুন ভোরে বন্দর এলাকায় নতুন বাসায় যায় পুলিশ। তবে সেসময় মুছা বাসায় না থাকায় পান্না আক্তারের মোবাইল ব্যবহার করে নবীকে দিয়ে ফোন করিয়ে মুছাকে আনা হয়। এরপর সেখান থেকে মুছাকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর আর তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে পুলিশ কমিশনার বলেন, এটি যিনি বলেছেন তার প্রমাণ করার বিষয়। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে আমরা মুছাকে গ্রেফতার করিনি।
মিতুর স্বামী বাবুল আক্তারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার, উনি মামলার বাদি। উনার সঙ্গে আমাদের তদন্ত কর্মকর্তার বিভিন্ন সময়ে কথা হয়েছে। আমাদের যদি প্রয়োজন হয় উনাকে অফিসিয়ালি চিঠি দিয়ে আসার জন্য বলা হবে। ইতোমধ্যে তিনি নিজেও আসার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। আশা করছি মামলা সংক্রান্ত নতুন কিছু তথ্য থাকলে তিনি তা দেবেন।
প্রসঙ্গত গত ৫ জুন চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড় এলাকায় মাহমুদা খানম মিতুকে ছুরিকাঘাত ও গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় বাবুল আক্তার নিজে বাদি হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এখন মামলাটি তদন্ত করছেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারি কমিশনার (দক্ষিণ) মোঃ কামরুজ্জামান।