চট্টগ্রাম: বিভাগীয় মামলার তদন্ত চলাকালে চট্টগ্রাম আদালত পুলিশের সদস্য মোঃ নাজিমকে বরিশালে বদলি করা হয়েছে। এই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছিল এক নারী।
পুলিশ সদস্য মোঃ নাজিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসায় দায়ের হয় বিভাগীয় মামলা; এটি তদন্ত করছেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (ট্রাফিক) শাকিলা সুলতানা। তিনি বলেন, মামলাটির তদন্ত চলছে। কিছুদিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। এরই মধ্যে কনস্টেবল নাজিমের বদলির আদেশ হয়েছে জেনেছি।
প্রসঙ্গত সাজানো বিয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রাম আদালতের দায়িত্ব থাকা নাজিম নামের এক পুলিশ সদস্যের লালসার শিকার হয়েছিলেন ওই নারী। ফলে নারীটি তার বিরুদ্ধে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করলে নাজিমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের হয়। সাক্ষ্য দিতে তিনি ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তীর কার্যালয়ে গেলে গত ১৮ আগস্ট পুলিশ কনস্টেবল রাসেলের হাতে লাঞ্ছিত হন ওই নারী।
ভুক্তভোগী ওই নারী সেসময় একুশে পত্রিকার কাছে অভিযোগ করেছিলেন, লাঞ্ছিত হওয়ার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী। এসময় ওই নারী তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিষয়টি জানালেও তিনি কর্ণপাত না করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ নিয়ে ‘পুলিশের লালসার সাক্ষ্য দিতে গিয়ে পুলিশের হাতেই লাঞ্ছিত’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে একুশে পত্রিকা।
পরবর্তীতে পুলিশ সদস্য মোঃ নাজিমের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বিভাগীয় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের আদেশ দেন মহানগর পুলিশের কমিশনার ইকবাল বাহার।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তীকে সরিয়ে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (ট্রাফিক) শাকিলা সুলতানাকে।
এরপর থেকে ভুক্তভোগী ওই নারীকে পুলিশ সদস্য নাজিম বিভিন্নভাবে অতিষ্ট করে আসছিল বলে অভিযোগ উঠে। তদন্ত চলাকালীন সময়েই চট্টগ্রাম আদালত পুলিশের সদস্য মোঃ নাজিমকে বরিশালে বদলী করা হয়।
ভুক্তভোগী ওই নারী একুশে পত্রিকাকে বলেন, নাজিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আমি বিপাকে পড়েছি। আমার বসবাসের ঠিকানা আকবরশাহ থানা এলাকায় হলেও অভিযোগের শুনানির জন্য একেকবার একেক থানায় ডাকা হচ্ছে আমাকে। নির্ধারিত বেশ কয়েকটি দিনে ডবলমুরিং, পাহাড়তলীসহ সংশ্লিষ্ট থানায় যাওয়ার পরও আমার সাক্ষ্য নেয়া হয়নি। অন্যদিকে নানাভাবে হুমকি ও মোবাইলে কুরুচিপূর্ণ কথা বলে আমার জীবনটা অতিষ্ট করে ফেলেছে নাজিম।
তিনি বলেন, তদন্ত চলাকালে নাজিমকে বরিশালে বদলি করায় আমি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হব- বলে মনে করছি। তার বদলি আদেশ কার্যকর হলে চাকরির অযুহাতে সে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আসবে না। এতে সঠিক বিচার না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী।