মামুনুল হক চৌধুরী : ‘লম্পট পুলিশ’ সদস্যের লালসার শিকার হওয়া এক নারী মামলার সাক্ষ্য দিতে গিয়ে পুলিশের হাতেই লাঞ্ছিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম আদালতে নগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিশন) এর কার্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ, এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার সাক্ষ্য দিতে গিয়ে দায়িত্বপালনকারী পুলিশ কনস্টেবল রাসেলের হাতে লাঞ্ছিত হন ওই নারী। এই সময় মহিলার শোরচিৎকারে উৎসুক আইনজীবী, আইনজীবী সহকারী ও বিচারপ্রার্থী জনগণ সেখানে ভিড় করেন।
এই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী। এসময় ভুক্তভোগী নারী তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিষয়টি জানালেও তিনি কর্ণপাত না করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়।
লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী বলেন, ‘নাজিম নামের এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলায় গতকাল ওই নারীর সাক্ষী দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি গতকাল না এসে আজ আমার অফিসে আসেন। ফলে আমার অফিসে দায়িত্বে থাকা পুলিশ কনস্টেবলের সাথে একটু কথা কাটাকাটি হয়। লাঞ্ছিত হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি।’ উল্টো ওই মহিলার বিরুদ্ধে অফিস ভাংচুরের অভিযোগ আনেন এডিসি প্রসিকিউশন।
ভুক্তভোগী ওই নারী একুশেপত্রিকাডটকমকে জানান, ‘আমার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সদস্য নাজিমের বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলা শুরু হয়েছে। ওই মামলায় সাক্ষী দেওয়ার জন্য আমি আজ (১৮ আগস্ট) আকবর শাহ থানা থেকে একটি সমন পেয়েছি। কিন্তু ওই সমনে সাক্ষী দেওয়ার জন্য তারিখ ছিল গতকাল (১৭ আগস্ট)। কিন্তু তারপরও আমি আমার ছেলে, সাক্ষীগণসহ চট্টগ্রাম আদালতের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) কার্যালয়ে যাই। সেখানে দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল রাসেল আমাকে স্যারের সাথে দেখা করতে না দিয়ে বলে, নাজিম যে মেরে ফেলেনি ওইটায় তোমার ভাগ্য। এই ধরনের নারী কেলেংকারীর ঘটনা অহরহ ঘটছে। গতকাল তোমার সাক্ষির জন্য দিন ছিল। গতকাল আসনি, আজ কেন আসছো। এই বলে সে আমাকে চলে যেতে বলে।’
‘এরপরও আমি যখন স্যারের সাথে দেখা করতে চাই তিনি উত্তেজিত হয়ে আমাকে চলে যেতে বলে গায়ে হাত দিয়ে ধাক্কা দেয়। এরপরও আমি যখন স্যারের সাথে দেখা করতে চাই আমাকে চড় থাপ্পর মারে।’- বলেন ওই ভুক্তভোগী নারী।
মহিলা জানান, লাঞ্ছনার বিচার না করলে আদালত ভবন ছেড়ে না যাবার কথা বলে এডিসি (প্রসিকিউশন) অফিসের সামনে দিনভর আমি বসে থাকি। একপর্যায়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশ এসে বিচারের আশ্বাসে আমাকে থানায় নিয়ে যায়। থানায় দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রেখে রাত ৯টার দিকে পুলিশের গাড়িতে করে টাইগারপাস মোড়ে আমাকে নামিয়ে দেওয়া হয়। বলেন ভুক্তভোগী ওই নারী।
প্রত্যক্ষদর্শী অনুপম নামের এক বিচারপ্রার্থী বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। নারীটি পুলিশের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার সাথে দেখা করার চেষ্টা করলে সেখানে দায়িত্ব পালনকারী এক পুলিশ সদস্য তাকে বাধা দেয়। পরে ওই নারীকে ধাক্কা দিয়ে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করলে শোরচিৎকারের ঘটনা ঘটে। তবে সেখানে ভাংচুরের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
আদালত সূত্রে জানা যায়, সাজানো বিয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রাম আদালতের দায়িত্ব থাকা নাজিম নামের এক পুলিশ সদস্যের লালসার শিকার হয়েছিলেন ওই নারী। ফলে নারীটি তার বিরুদ্ধে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করলে নাজিমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের হয়। সাক্ষ্য দিতে তিনি ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) এর কার্যালয়ে আসলে এই ঘটনা ঘটে।