
ভারত : এলোপাতাড়ি গুলি করে নিরীহ উপজাতীয়দের হত্যার ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা প্রিয়াংকা গান্ধী ভদ্রকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) তাকে আটক করা হয়।
এনডিটিভি অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সোনভদ্রায় যাওয়ার পথে প্রিয়াঙ্কার গাড়ি থামানো হয়। প্রিয়াঙ্কা জায়গা থেকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে আটক করে সরকারি গাড়িতে তোলা হয়। তখন তিনি বলেন, আমি জানি না তারা আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। আমরা যেকোনো জায়গায় যেতে রাজি।
সোনভদ্রার ওই ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দেখতে আজ সকালে হাসপাতালে যান প্রিয়াঙ্কা। ৩৬ একর জমিকে কেন্দ্র করে গুজ্জার ও গন্ড সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন মারা যায় এবং ২৪ জন আহত হয়। যোগী দত্ত নামের এক গ্রামপ্রধান কৃষকদের ওপর গুলি ছোড়েন। জমি দখল করতে ২০০ লোক ও ৩২ ট্রাক্টর ট্রলি আনেন তিনি। জমি দখলে বাধা পেলে আধঘণ্টার বেশি সময় ধরে গুলি ছোড়েন তিনি।
এ ঘটনায় ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যোগী দত্ত ও তাঁর ভাইসহ ৭৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
প্রদেশটির কংগ্রেস প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন প্রিয়াংকা। তাকে শুক্রবার সনভান্দ্র জেলার কাছে মির্জাপুরের একটি রাস্তায় বসে প্রতিবাদ করতে দেখা গেছে। এসময় কংগ্রেস কর্মীরা তার সঙ্গে ছিলেন। নিরাপত্তা কর্মীরা তাদের ঘিরে রেখেছিল।
প্রিয়াংকা বলেন, আমি কেবল আক্রান্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করতে চাই। তাদের স্বজনদের নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমার ছেলের বয়সী একটি শিশু গুলিবিদ্ধ হয়েছে। সে এখন হাসপাতালে বেডে কাতরাচ্ছে।
‘কেন আমাকে যাত্রাপথে থামিয়ে দেয়া হয়েছে, তা বলতে হবে,’ দাবি করলেন প্রিয়াংকা। লোকসভা নির্বাচনের পর ৪৭ বছর বয়সী এই কংগ্রেস নেত্রীর উত্তর প্রদেশে এটি দ্বিতীয় সফর।
ঘটনার দিন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এক টুইটে বলেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যে অপরাধীদের আত্মবিশ্বাস এতটাই বেড়েছে যে তারা দিনের আলোতে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। উবমা গ্রামের ভূমিদস্যুদের হাতে এভাবে খুনের ঘটনা হৃদয়বিদারক। প্রশাসন ও মুখ্যমন্ত্রী ঘুমাচ্ছেন। এভাবেই কি রাজ্য অপরাধমুক্ত হবে?
আজকের ঘটনার জন্য যোগী আদিত্য নাথ কংগ্রেসকে দায়ি করেন। তিনি বলেন, কংগ্রেস সরকার অতীতে ভূমিদস্যুদের যে সুরক্ষা দিয়েছে, সোনভদ্রার ঘটনা তার একটি উদাহরণ।
এদিকে, বোনকে আটকের নিন্দা জানিয়েছেন কংগ্রেসের বিদায়ী সভাপতি রাহুল গান্ধী।
একুশে/ডেস্ক/এসসি