
ঢাকা: রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বেকারিতে হামলা মামলার রায়ে আটজনের মধ্যে সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ওই হামলায় নিহত তৎকালীন ঢাকা মহানগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) রবিউল করিমের পরিবার।
রায় ঘোষণার পর এসি রবিউলের ছোট ভাই শামসুজ্জামান শামস বলেন, ‘ঐতিহাসিক এই রায় শোনার জন্য বাসায় অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রয়েছেন মা ও ভাবি। রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।’
তিনি বলেন, ‘ভাই মারা যাওয়ার এক মাস পর তার একটি মেয়ে শিশুর জন্ম হয়। কিন্তু তার আগেই তার জীবন কেড়ে নিয়েছিল জঙ্গিরা। তাই তার সেই মেয়েও অপেক্ষায় রয়েছে বাবার খুনিদের বিচারের। তার বয়স সাড়ে তিন বছর।’
শামসুজ্জামান শামস আরও বলেন, ‘রায়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ঘোষণা হওয়ায় অন্য অপরাধীরা আর এ ধরনের অপরাধ করার কোনো সাহস পাবে না।’
বুধবার দুপুর ১২টা ১৬ মিনিটে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে দুপুর ১২টায় মামলার রায় পড়া শুরু করেন বিচারপতি।
সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে প্রিজনভ্যানে কারাগার থেকে আসামিদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় প্রিজনভ্যান থেকে নেমে আঙুল উঁচিয়ে হাসিমুখে আদালতের ভেতর প্রবেশ করে আট আসামি। এর মধ্যে একজনের পায়ে সমস্যা থাকায় তিনি ক্রাচে ভর করে আদালতে প্রবেশ করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি হলেন- জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র্যাশ, আব্দুস সবুর খান (হাসান) ওরফে সোহেল মাহফুজ, হাদিসুর রহমান সাগর, শরিফুল ইসলাম খালেদ ও মামুনুর রশিদ রিপন। এ মামলায় অপর আসামি মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান খালাস পেয়েছেন।