
বাদল রায় স্বাধীন, সন্দ্বীপ : মাথার ওপর একটা বড়সড় ফুটবল একেবারে স্থির। চিন্তা করুন যাঁর মাথার ওপর, তাঁর দুই হাত মোটর সাইকেলের হাতলে। ৮০ কিলোমিটার গতিতে মোটর সাইকেলটি চালাচ্ছেন তিনি, এটা কী করে সম্ভব। মোটেও কাল্পনিক গল্প নয় এটি। গত ৪ ডিসেম্বর এমন ফুটবল মাথায় নিয়ে চলা বাইক চালককে দেখা গেলো সন্দ্বীপ উপজেলায়।
ইশারা দিয়ে দাঁড় করানো হলো তাঁকে। মোটর সাইকেল হুট করে ব্রেক কষলেন। মাথা থেকে ফুটবল একচুলও নড়ল না। আশপাশের কেউ একজন বলে উঠল, বলের সঙ্গে ‘চুম্বক’ আছে। এই চুম্বক-রহস্য জানতে চাওয়া হলো তাঁর কাছে। ফুটবল নামিয়ে হাতে দিয়ে বললেন, ‘দেখেন তো চুম্বক আছে নাকি? আমার মাথাটাও দেখেন। চেক করেন।’ তাঁর দেওয়া ফুটবল হাতে নিয়ে কথা হলো। ভদ্রলোকের নাম মাসুদ রানা। এলাকায় মানুষ তাঁকে নাম দিয়েছে ‘ফুটবল-মানব’। এলাকা মানে খুলনার ডুমুরিয়া থানার বরুনা গ্রাম।
কিন্তু তাঁর ফুটবল–কীর্তি পৌঁছে গেছে সীমানা ছাড়িয়ে গ্রিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ডে। তার সাথে সাক্ষাৎ হলো সন্দ্বীপ উপজেলা কমপ্লেক্সের হোটেল সুরভিতে। নিজেরা একটি বল দিলাম তার হাতে। সে মুহূর্তে বল মাথায় রেখে কথা বলতে থাকলেন টানা ১০ মিনিটি। বলতে থাকলেন তার ২০ বছরের সাধনার কথা কীভাবে ফুটবল-মানব হয়ে উঠলেন। বললেন বিশ্বকাপ ফুটবল দেখে দেখে শুরু করলাম বল নিয়ে নানা কসরত।
জিজ্ঞেস করলাম কীভাবে ফুটবল মাথায় নিয়ে থাকা যায়। বললেন, ‘আমি চাইলে মাথায় ফুটবল নিয়ে যে কোনো কাজই করতে পারি। শুধু ঘুমানোর সময় নামিয়ে রাখতে হয়।’ একনাগাড়ে কথা বলে থামেন মাসুদ। জানতে চাই আপনার পেশা কী? এবার হেসে বললেন ‘ফুটবলের প্রেমে পড়লে কী আর কিছু করা যায়!’ গরীব ঘরে জন্ম আমার । আমি মানুষকে আনন্দ দিতে পছন্দ করি। সবাই দেখে, বাহবা দেয়, উৎসাহ দেয়—এটাই বা কম কী?’ একটা ফুটবল মাথায় রাখলেই সবাই বাহবা দেয়? এবার খানিকটা রহস্য খুলে দেওয়ার ভঙ্গি করেন মাসুদ রানা। এক সাথে ৭ টি ফুটবল নিয়ে খেলা করতে পারেন তিনি। একটাও মাটিতে পড়বে না। ফুটবল তো খেলার জিনিসই। এই খেলা সেই খেলা না। দেখবেন? ততক্ষণে ভিড় বেড়ে গেছে দোকানে। সাক্ষাৎকারের ইতি টানতে হলো। কারণ দোকানীর লস হচ্ছে। সাক্ষাৎকার শেষ হতে মুহুর্মুহু হাততালি পড়ে যায়। বিদায় নিয়ে ফুটবল মাথায় করে মোটরসাইকেল চালু করেন ফুটবল মানব মাসুদ।
জানালেন আগামীকাল শুক্রবার পুর্ব সন্দ্বীপ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে দেখাবেন তার আকর্ষনীয় ফুটবল কসরত। কমপক্ষে দশ হাজার লোক তার খেলা দেখবেন বলে আশা করছেন তিনি।