বছরের শেষদিন তিন বছরের প্রেমের সম্পর্কের শুভ পরিণতিতে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক ডা: ইমরান এইচ সরকার ও শিক্ষামন্ত্রীর বড় মেয়ে নন্দিতা নাদিয়া ইসলাম।
ইমরানের ঘনিষ্ঠসূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই পরিবারের কাছের মানুষদের উপস্থিতিতে ইমরান ও নাদিয়াকে আংটি পরানো হয়েছে। গায়ে হলুদের আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন হয়েছে পারিবারিক আবহে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং কনের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন আত্মীয় ছাড়া গণজাগরণ মঞ্চের কয়েকজন ছিলেন পারিবারিক ওই আয়োজনে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষাতত্ত্বের সহকারী অধ্যাপক নন্দিতা পরিচিতজনদের কাছে তিন্নি নামেই তিনি পরিচিত। তার এসএসসি ১৯৯৭ সালে। বেশ কিছুদিন ধরেই পারিবারিকভাবে ইমরানের সঙ্গে তার বিয়ের কথা চলছিল বলে পরিবারের ঘনিষ্ঠ একজন জানিয়েছেন।
শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) মিন্টো রোডে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের বাসায় দুই পরিবার এবং নিকট আত্মীয়দের উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হবে বলে জানা গেছে। ইমরান এইচ সরকার বলেন, পারিবারিকভাবেই সব হচ্ছে। ঢাকায় কনের বাড়িতে শনিবার বিয়ে।
৩৩ বছর বয়সী ইমরান ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্রের দায়িত্বে আসার পর সারা বাংলাদেশে আলোচিত মুখ। ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক হিসেবে গণজাগরণ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি নেওয়া ইমরান।
মেডিকেল কলেজের ছাত্র থাকাবস্থায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগে যুক্ত ছিলেন ইমরান। ‘ইয়ুথ ফর পিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ বা ওয়াইপিডি নামের একটি সংগঠনও করতেন তিনি, যার মূল লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি। এই কাজের জন্য ‘প্রজন্ম ব্লগ’ গঠন করে ওয়াইপিডি।
গত ফেব্রুয়ারিতে ফেইসবুকে ইমরান ঘোষণা দেন, বিয়ে তিনি করছেন এ বছরই। সেলফি পোস্ট করে লিখেছেন, ২০১৬ সালে বিয়ে করছি। এটা ফাইনাল। বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তা কমানো দরকার, তাই না? সে সময় যোগাযোগ করা হলে ইমরান বলেছিলেন, মঞ্চের কাজের ব্যস্ততার জন্যই এতদিন বিয়ের বিষয়ে মনযোগ দিতে পারেননি। আসলে এমবিবিএস পাসের পর থেকে বাবা-মাসহ আত্মীয়-স্বজনরা অনেক আগে থেকেই বলছিলেন। এর মধ্যে ২০১৩ সালে গণজাগরণ মঞ্চ গঠন হল, আমি এর সঙ্গে যুক্ত হলাম। ২০১৪-১৫ সালেও মঞ্চের কাজের ব্যস্ততা ছিল, তাই তখন এ নিয়ে ভাবনা চিন্তার অবসর পাইনি।