বুধবার, ৩ মার্চ ২০২১, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭

‘মায়াস্বর্গ’ লিখেই ‘সেঞ্চুরি’ মোশতাক আহমেদের

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ


চট্টগ্রাম : সাধারণত বই অনুরাগীরা অপেক্ষা করতে থাকেন কখন তাদের প্রিয় লেখকের বই বের হবে। পাঠকের বই পড়ার এই উন্মাদনা যে লেখকদের লেখনিতেও অনুরাগের প্রভাব ফেলে তা নিশ্চয়ই বলার অপেক্ষা রাখে না।

ভৌতিক বই, গোয়েন্দা, অ্যাডভেঞ্চার, ভ্রমণ উপন্যাস, স্মৃতিকথা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নানা পাঠকপ্রিয় বই রচনার পাশাপাশি সায়েন্স ফিকশন নিয়ে পাঠকমহলে তুমুল ঝড় তোলা কথাসাহিত্যিকের বই প্রকাশ হলে তো আর কথাই নেই, ঈদ আমেজ যেন পাঠকের ঘরে ঘরে।

২০০৪ সাল থেকে লেখালিখির ধারাবাহিকতায় আবারও পাঠকের দোরগোড়ায় নতুন বই নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক মোশতাক আহমেদ।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) অনিন্দ্য প্রকাশনী থেকে প্রকাশ পেয়েছে ‘সায়েন্স ফিকশন’ নিয়ে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রাপ্ত একমাত্র এই লেখকের শততম বই ‘মায়াস্বর্গ’। এ পর্যন্ত ‘সায়েন্স ফিকশন’ নিয়ে একে একে নয়টি বই রচনা করেছেন মোশতাক আহমেদ। যার অধিকাংশ বই-ই জাতীয় ও আঞ্চলিক নানা বইমেলার পাশাপাশি দেশের জনপ্রিয় ভ্যার্চুয়্যাল বইঘরগুলোতেও ‘বেস্টসেলার’ বই হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছে।

এদিকে প্রিয় লেখকের নতুন বই পেতে বই মেলা পর্যন্ত দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটায় পাঠকমহলেও স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে।

‘মায়াস্বর্গ’ বই প্রকাশের অনুভূতি জানতে চেয়ে লেখকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটি বই নিজের সন্তানের মত, যখন একটা বই প্রকাশ হয় সেটার আনন্দ থাকে অন্যরকম। যেহেতু ‘মায়াস্বর্গ’ আমার শততম বই সেহেতু ভালো লাগার মাত্রাটা আজ অন্যরকম।’

তবে এত এত সুখকর মুহুর্তে খানিকটা বিষন্ন লেখকের মন। কারণ সদ্যপ্রসূত বইটি তাঁর পাশে নেই। ঢাকায়ও যাওয়া হয়নি যেখানে বইটি প্রকাশিত হয়েছে।

এসময় পাঠকদের জন্য অগ্রিম সুসংবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, কিশোর গোয়েন্দা সিরিজ ‘শিশিলন’- এর ১১তম বই রেড ড্রাগন, ১২ তম বই নিতুর টিয়া, ভৌতিক বই ছায়ামৃত্যু ও প্যারাসাইকোলজি উপন্যাস ‘দ্যা নিউ ওয়ার্ল্ডসহ ৫টি বই নিয়ে খুব শীগ্রই আবারও উপস্থিত হবেন পাঠকের মাঝে।

মায়াস্বর্গ বইয়ের প্রেক্ষাপট-রহস্য সম্পর্কে খানিকটা ইঙ্গিত মেলে বইয়ের প্রারম্ভে থাকা এই লেখায়:
‘আজাদ আর শারমীনের সুখের সংসার। এখনো সন্তান না হওয়ায় কিছুটা দুঃখ আছে বৈকি, তবে আজাদ বিশ্বাস করে আজ হোক কাল হোক, সংসারে সন্তান আসবে। সুখের এই সংসারটা আচমকাই এলোমেলা হয়ে গেল মায়াস্বর্গের প্রভাবে। শারমীন হঠাৎ হঠাৎ হারিয়ে যেতে শুরু করল মায়াস্বর্গ নামক অদ্ভুদ এক কাল্পনিক জগতে। মায়াস্বর্গে শারমীনের দ্বিতীয় স্বামী আছে, তার নামও আজাদ, চেহারাও একইরকম। আর রয়েছে ফুটফুটে এক মেয়ে, নাম নওমি। দিন যতই পার হতে থাকে, মায়াস্বর্গের প্রতি শারমীনের মোহ তত বাড়তে থাকে। একসময় ভুলে যেতে থাকে বাস্তব জীবনের স্বামী, সংসারকে। গভীর এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে আজাদ শরনাপন্ন হয় ডাক্তার তরফদারের। ডাক্তার তরফদার প্রথমে ভেবেছিলেন শারমীনের অসুস্থতাটা বোধহয় সিজোফ্রেনিয়া হবে। কিন্তু যখন নিশ্চিত হলেন মায়াস্বর্গের সবকিছু কাল্পনিক নয়, অনেক অজানা আর গোপন সত্য রয়েছে মায়াস্বর্গের ধুম্রজালে, তখন সিজেফ্রোনিয়া ধারণা থেকে বের হয়ে এলেন তিনি। ধীরে ধীরে বুঝতে পারলেন শারমীনের জীবনের অনেক ঘটনাই অজানা রয়েছে আজাদের। পাশাপাশি শারমীনের রয়েছে এক অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা। দূর থেকে হলেও সে সবার অলক্ষ্যে যোগাযোগ করতে পারে , সময় কাটাতে পারে প্রিয়, অতিপ্রিয় আর ভালোবাসার মানুষের সাথে। পৃথিবীর খুব অল্পসংখ্যক মানুষের এই ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু শারমীনের সময় যে শেষ! মৃত্যু তার দরজায় কড়া নাড়ছে! আর কয়েকটা দিন মাত্র! ডাক্তার তরফদার কী শেষ পর্যন্ত পেয়েছিলেন মায়াস্বর্গের সন্ধান? আর কী পরিণতি হয়েছিল শারমীন আর আজাদের সংসারের? শারমীনের ঐশ্বরিক ক্ষমতারও বা ব্যাখ্যা কী ছিল?’

বইটিতে লেখক ‘অতি প্রিয় কাউকে খুঁজে পাওয়ার’- কাহিনী চিত্রায়িত করে যে গূঢ় রহস্যের অবতারণা করেছেন, সেটার সমাধান পেতে হলে ‘মায়াস্বর্গ’ বইটি পড়ার বিকল্প নেই পাঠক মহলের।